একসময় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (রহ.)-এর দিঘির একমাত্র জীবিত হিংস্র কুমিরটি। একটি কুকুর ও আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবির মুখে অবশেষে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে কুমিরটিকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার সকালে বাগেরহাটের খাঞ্জেলী দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে গাড়িযোগে সেটিকে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। উদ্ধার অভিযানে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, করমজলের বিশেষজ্ঞ দল এবং মাজারের খাদেমরা অংশ নেন।
খুলনায় কুমিরটি পৌঁছানোর সময় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ এবং সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ বছর বয়সী এ মিঠাপানির কুমিরটি ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে একমাত্র জীবিত সদস্য। লবণাক্ত পানির আবাসস্থল হওয়ায় কুমিরটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে না।
নির্মল কুমার পাল জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগে থেকেই পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১৫ বছর বয়সী একটি কুমির ছিল। সেটিকে অন্য খাঁচায় সরিয়ে বড় খাঁচায় নতুন কুমিরটিকে রাখা হয়েছে। এটি মিঠাপানির কুমির। তাই ভবিষ্যতে মিঠাপানির উপযোগী কোনো পরিবেশেই রাখা বা অবমুক্ত করা হবে।