যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:৫৫ এএম
যশোরে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফুল চাষ। ফাইল ফটো
সকালে শিশির ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘাসের কণা। গাছ থেকে ঝরে পড়ছে পাতা। পরিবেশের শুষ্কতার মাঝেই এসেছে আনন্দের বার্তা। ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা ক্যালেন্ডার হয়ে পড়েছে অকেজো। দুয়ারে এসেছে ইংরেজি নতুন বছর, এক তোড়া ফুল হাতে নিয়ে প্রিয়জনকে কেউ হয়তো বলবেন, শুভ ইংরেজি নববর্ষ।
অতীতে দেশে ফুলের উৎপাদন ও ব্যবহার ছিল খুব সীমিত। বর্তমানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুলের উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। বেড়েছে ব্যবহারও। ফুল চাষের মাধ্যমে অর্থনীতিতে এসেছে সমৃদ্ধি।
করোনা মহামারির সংকট কেটে গেছে। আবহাওয়াও অনুকূলে। বিজয় দিবস ঘিরে বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। তাই মৌসুমের শুরুতেই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন ফুলের রাজ্য যশোরের গদখালির চাষিরা। ইংরেজি নববর্ষ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসসহ সামনের অন্য বিশেষ দিবসগুলোতে ভালো বেচাকেনার আশা চাষিদের।
গদখালীর পথের দুপাশে দিগন্তজুড়ে রঙের সমাহার। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের চাদর যেন বিছিয়ে রেখেছে চারদিকে। মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা ধরনের ফুল।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গদখালী ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস গোলাপ ৫ থেকে ৮ টাকা, গ্লাডিওলাস ১০ থেকে ১৫ টাকা, জারবেরা ৮ থেকে ১০ টাকা, রজনীগন্ধা ৬ থেকে ৮ টাকা, একশ' পিস চন্দ্রমল্লিকা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, এক হাজার গাঁদা ফুল ১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফুল ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে বেশি চাহিদা থাকে গোলাপ ও রজনীগন্ধার। বিজয় দিবসে গোলাপ ৪ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৫ থেকে ৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর ৪ টাকার রজনীগন্ধা বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকা।
বর্তমানে ফুলের দাম ভাল বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম। বাজার চাঙা থাকলে চলতি মৌসুমে চাষিরা শত কোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ভালো দামে ফুল বিক্রি করতে পেরেছি। আর একদিন সময় আছে। আশা করি ভালো দাম পাব।
ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, বর্তমানে ফুলের বাজার বেশ ভালো যাচ্ছে। প্রতি পিস গোলাপ ৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পেরেছি। গেল কয়েক বছরে করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পারব।

বিভিন্ন ধরনের ফুল বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে। ছবি : প্রবা
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানয়িছেনে, যশোরের গদখালিতে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুলের চাষ হয়েছে। বিভিন্ন দিবসকেন্দ্রিক হলেও এখন সারা বছর এই এলাকায় ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এখানে নতুন নতুন জাতের ফুলের চাষ করা হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, গত বছর টিউলিপ ও লিলিয়াম ফুল চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন এখানকার চাষিরা। এ বছরও চাষ করা হয়েছে। আমরা চাষিদের সার, বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি। গত কয়েক বছর করোনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে ফুল চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বছর ফুলের উৎপাদন ও দাম ভালো পাওয়ায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন চাষিরা।