বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:২৩ পিএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:১১ পিএম
সাড়ে ১১ লাখ লিটার তেল নিয়ে রবিবার ভোলার মেঘনা নদীতে ডুবে গেছে কার্গো জাহাজ সাগরনন্দিনী-২। ছবি : প্রবা
ভোলার মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী কার্গো জাহাজ এমভি সাগরনন্দিনী-২ উদ্ধার ও তেল অপসারণে দুটি জাহাজ পাঠিয়েছে মোংলা বন্দর।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে মেঘনার তুলাতলী পয়েন্টে তেল অপসারণকারী জাহাজ ‘পশুর ক্লিনার -১’ ও টাগ বোট ‘অগ্নিপ্রহরী’ পৌঁছেছে।
জাহাজ দুটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারকাজে অংশ নেবে।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও গণসংযোগ বিভাগের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দুর্ঘটনাস্থলে হুমাইয়া ও উমিয়া নামে দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ আগে থেকেই রয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মাদ শাহীন মজিদ বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ল্যামোর সংযোজিত অত্যাধুনিক তেল অপসারণকারী জাহাজ পশুর ক্লিনার-১ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ টাগ বোট অগ্নিপ্রহরী ভোলায় পাঠানো হয়েছে। জাহাজ দুটি ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, উদ্ধারের সময় যদি তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তেল অপসারণকারী জাহাজ তেল অপসারণ করবে; যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘তেলসহ ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শনিবারের (৩১ ডিসেম্বর) মধ্যে জাহাজটি টেনে তোলার চেষ্টা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘উদ্ধারের সময় যদি জাহাজ থেকে তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে জাহাজ দিয়ে তেল অপসারণ করা হবে। যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
জাহাজডুবির ঘটনায় পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সাড়ে ১১ লাখ লিটার তেল নিয়ে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে জাহাজ এমভি সাগরনন্দিনী-২। রবিবার ভোরে ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলী-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে সেটি অন্য এক জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে জাহাজের তলা ফেটে মুহূর্তেই মেঘনায় তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
মৎস্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘনায় জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ছড়ানো তেল পরিবেশের ক্ষতি যা করার করে ফেলেছে। নদীর তেল ছড়িয়ে পড়বে সাগরে। এ ক্ষতির প্রভাব হয়তো আরও কিছুদিন পর বোঝা যাবে। ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদনে এটি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রভাব ফেলবে নদীর জীববৈচিত্র্যেও। এ ছাড়া সাগরে যাওয়ার পর সেটি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে নদী ও সাগরের বাস্তুসংস্থানে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল সাগরে গিয়ে পড়বে। এর ফলে সামনের মৌসুমে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজননে প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নদী ও সাগরের বাস্তুসংস্থানে প্রভাব ফেলবে। তা ছাড়া জেলেদের স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এর আগেও বঙ্গোপসাগরে তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জলজ পরিবেশের। সরকারের উচিত জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে জাহাজডুবির কারণগুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বহির্বিশ্বেও এ ঘটনাটা প্রচার হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়বে।’