নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ ১২:৩০ পিএম
নেছারাবাদের মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ শুক্রবার আগুন লেগে ১৭টি দোকান পুড়ে যায়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
নেছারাবাদ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ আগুনে ১৭টি দোকান পুড়ে গেছে। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারনা ফায়ার সার্ভিসের।
বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন রশিপট্টি এলাকায় এ শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আগুনে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি- প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাত ১০টার দিকে অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। এসময় কয়েকটি দোকান খোলা ছিল। হঠাৎ রশিপট্টি এলাকার একটি দোকান থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার দিয়ে ছুটে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের চোখের সামনেই পুড়ে যেতে থাকে দোকান ও মালামাল।
খবর পেয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী মো. রিয়াদ কাজী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা করছি। আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি। কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুবই কঠিন।”
রশি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত বছরও একই গলিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারবার এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাচ্ছে।”
মিয়ারহাট বাজারের বিটি মালিক মো. মেহজাবিন কিবরিয়া সোয়াইব বলেন, “কম করে হলেও প্রতিটি দোকানে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “রশিপট্টিতে লাইলনের রশি থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে ১৭টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।”
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানুষের জানমাল রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দায়িত্ব পালন করেছে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।