লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:২৮ পিএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৪০ পিএম
পুলিশের সঙ্গে ঘুরাঘুরি করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। ছবি : প্রবা
লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে পুলিশের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাসান বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন ওই ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। তখন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেই ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল কেন্দ্রে ঘুরাঘুরি করেন। পরে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নিজ গাড়িতে করে ওসি তাকে ইউপি কার্যালয়ের দিকে নিয়ে যান।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল কেন্দ্রে গিয়েছেন কি না তা আমাদের কেউ জানায়নি। যদি তিনি গিয়ে থাকেন তাহলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। প্রার্থীদের যেতে সমস্যা নেই। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রায় ৪ মাস আগে উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক পোদ্দার মারা যান। পরে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে সেখানে পুনঃনির্বাচন দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ওয়ার্ড সদস্য পদে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে ফারুক হোসেন (মোরগ), দেলোয়ার হোসেন (তালা), ফিরোজ আলম বাবু (টিউবওয়েল) ও জয়নাল আবেদিন আবদুল (ফুটবল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ওয়ার্ডে ২ হাজার ৮৬৫ জন ভোটার রয়েছে।
নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। তবে বুথে ঢুকেননি তিনি। কোনো ধরনের প্রভাবও খাটাননি। তবে আমি তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। পরে তিনি পুলিশের সঙ্গেই চলে গেছেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আচরণবিধির বিষয়টি আমার জানা আছে। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই কেন্দ্রে যায়। পরে প্রশাসনের সঙ্গেই আবার চলে আসি। কারো পক্ষ বিপক্ষ হয়ে আমি কেন্দ্রে যাইনি।’
ওসি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘এসপি স্যার আসছেন শুনে চেয়ারম্যান ভোটকেন্দ্রে আসেন। পরে আমরা তাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।’