মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:০১ এএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৪৮ পিএম
মাদারীপুরের কুমার নদে অবৈধভাবে তৈরি করা বাঁধ বুধবার ভেঙ্গে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: প্রবা
মাদারীপুরে কুমার নদের চরে অবৈধভাবে দখলে নেওয়া বাঁধ ভেঙে দিয়েছেন প্রশাসন। বু্ধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় মস্তফাপুর স্লুইসগেট এলাকায় মাটিকাটার যন্ত্র দিয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিন।
এর আগে মস্তফাপুরে কুমার নদে জেগে ওঠা চর অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষের জন্য ঘের তৈরি করেন মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সোহরাব হোসেন খান। স্থানীয় বাসিন্দারা এর নাম দিয়েছিলেন ‘চেয়ারম্যান প্রজেক্ট’। নদের চরে বাঁধ উচ্ছেদ হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা।
সদর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কুমার নদের চরে ৫০ নম্বর চতুরপাড়া মৌজায় বিআরএস ১ নম্বর খতিয়ানে ৬৩৪ নম্বর দাগে তিন একরের বেশি জমি খাল শ্রেণি হিসেবে রেকর্ড। এই খালের জমির লেয়ার কুমার নদ হিসেবেই পরিচিত। সরকারি এই খাস জমির বিশাল একটি অংশে বেড়িবাঁধ দিয়ে ঘের তৈরি করেন ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান। প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির বাঁধটি ২০ থেকে ২৫ ফুট চওড়া ছিল।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিন বলেন, ‘নদে জেগে ওঠা চরের জমিতে ইউপি চেয়ারম্যান অবৈধভাবে ঘের করে মাছ চাষ ও শাকসবজি চাষাবাদ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। একজন চেয়ারম্যান কর্তৃক সরকারি খালের জায়গা এভাবে দখল করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এই কাজ করার জন্য চেয়ারম্যান তার পরিষদে মিটিং করে যে রেজুলেশন করেছেন, তা তিনি কোনোভাবেই করতে পারেন না।’
ইউএনও বলেন, ‘তিনি (চেয়ারম্যান) কেন চর দখলে নিয়ে এমন কাজ করলেন, সেই বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যানের দখল করা বাঁধ ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে দিয়েছি। বাঁশের খুঁটি গেঁথে লাল পতাকার নিশান লাগিয়ে নদের খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।’
উচ্ছেদ অভিযানে মাদারীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. সাইফুল ইসলাম, চর দখলে অভিযুক্ত ও মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান, মস্তফাপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আলেয়া আক্তার ও সদর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।