ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:১৩ পিএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৪৫ পিএম
সাড়ে ১১ লাখ লিটার তেল নিয়ে রবিবার ভোলার মেঘনা নদীতে ডুবে গেছে কার্গো জাহাজ সাগরনন্দিনী-২। ছবি : প্রবা
ভোলার মেঘনায় ডুবে যাওয়া তেলবাহী কার্গো জাহাজ সাগরনন্দিনী-২ মেরিন আইন অমান্য করে চলছিল। জাহাজে ছিল না কোনো পাইলট। ঘন কুয়াশায় অদক্ষ চালক দিয়ে চালানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এজন্য জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জাহাজটির ফিটনেস ছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ডুবে যাওয়ার দুই দিন পার হলেও এখনও জাহাজটি উদ্ধারের কাজ শুরু হয়নি।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) এমন তথ্য জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ) মো. শাজাহান।
তিনি জানান, জাহাজডুবির ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিএ। মঙ্গলবার দুপুরে এ কমিটি করা হয়। তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ডুবে যাওয়া জাহাজের লস্কর ফরিদুল আলম পাটোয়ারী বলেন, ‘জাহাজে পাইলট ছিল না। রাতে জাহাজ চালান সেকেন্ড মাস্টার শাহ পরান ও বড় মাস্টার বেল্লাল। যদি পাইলট থাকত তাহলে এমন দুর্ঘটনা হয়তো ঘটত না।’
এদিকে রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোরে ডুবে যাওয়া জাহাজটি কবে উদ্ধার করা হবে তা-ও কেউ বলতে পারছে না। জাহাজ থেকে তৃতীয় দিনের মতো মেঘনা নদীতে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ছে। সোমবারই এ ঘটনায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা জানিয়েছিলেন স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশকর্মীরা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. শাজাহান বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ওই জাহাজ মেরিন আইন ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তার আগে জাহাজটি উদ্ধার করা হবে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও বিআইডব্লিউটিএর যৌথ প্রচেষ্টায় জাহাজটি উদ্ধার করা হবে। এজন্য কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ১৯ সদস্যের ডুবুরি প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে ১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি জাহাজ উদ্ধারকাজে অংশ নেবে।’
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের স্টাফ অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট এম হাসান মেহেদি বলেন, ‘উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবে। আমাদের ডুবুরি দলও প্রস্তুত রয়েছে।’
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সাড়ে ১১ লাখ লিটার তেল নিয়ে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে জাহাজ এমভি সাগরনন্দিনী-২। রবিবার ভোরে ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে সেটি অন্য এক জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে জাহাজের তলা ফেটে মুহূর্তেই মেঘনায় তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
মৎস্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘনায় জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ছড়ানো তেল পরিবেশের ক্ষতি যা করার করে ফেলেছে। নদীর তেল ছড়িয়ে পড়বে সাগরে। এ ক্ষতির প্রভাব হয়তো আরও কিছুদিন পর বোঝা যাবে। ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদনে এটি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রভাব ফেলবে নদীর জীববৈচিত্র্যেও। এ ছাড়া সাগরে যাওয়ার পর সেটি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে নদী ও সাগরের বাস্তসংস্থানে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল সাগরে গিয়ে পড়বে। এর ফলে সামনের মৌসুমে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজননে প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নদী ও সাগরের বাস্তুসংস্থানে প্রভাব ফেলবে। তা ছাড়া জেলেদের স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর আগেও বঙ্গোপসাগরে তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জলজ পরিবেশের। সরকারের উচিত জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে জাহাজডুবির কারণগুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বহির্বিশ্বেও এ ঘটনাটা প্রচার হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়বে।’