গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৪১ পিএম
বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩-এর সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা। ছবি : প্রবা
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।
তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ এখনও শেষ হয়নি। চীন ও ভারতে সংক্রমণ ফের বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে বিশ্ব ইজতেমা অংশগ্রহণ করতে হবে।’
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠে আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩-এর সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। চারদিন বিরতি শেষে ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী জাহিদ বলেন, ‘ইজতেমা মাঠে আগে মুসুল্লিরা চটের বেড়া দিয়ে নির্মাণ করা কাঁচা ও অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার করতেন। এতে মুসল্লিরা ডায়ারিয়াসহ নানান পীড়ায় ভুগতেন। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১টি পাকা বহুতল বিশিষ্ট টয়লেট ভবন ও পাকা গোসলখানা তৈরি করে দিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানির জন্য ১৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছেন। ইজতেমা উপলক্ষে আমরা টঙ্গীবাসী অনেক উপকৃত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
সভার প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরসহ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নিতে হবে। তুরাগ নদী পারপারে মুসুল্লিদের জন্য পাঁচটি পল্টুন ব্রিজ করার প্রস্তাব দিয়েছে সেনাবাহিনী। সেটির পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী ৮টি পল্টুন ব্রিজ নির্মাণে সেনাবাহিনীর প্রতি আমার অনুরোধ। কারণ সেনাবাহিনীর সে সক্ষমতা আছে।’
ইজতেমার দুই পর্বের ছয়দিন ইজতেমা মাঠের পাশের মহাসড়কে রিকশা বন্ধ রাখা এবং আখেরি মোনাজাতের আগের দিন থেকে মোনাজাতের পর দিন পর্যন্ত বাস-ট্রাকসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। বিকল্প রাস্তায় এ সব যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইজতেমার এ জায়গাটি আজকের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দিয়েছেন। কিন্তু ওয়েবসাইটে গেলে নাকি দেখা যায় খালেদা জিয়ার নাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। ইজতেমায় আগত বিদেশি মুসুল্লিদের ভিসা সহজীকরণের পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বিশ্ব ইজতেমার প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মুসল্লিরা ইজতেমায় যোগ দিতে ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। এটি সহজ ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে। টঙ্গী ব্রিজের পশ্চিমে দখলদার উচ্ছেদ, ঢাকা অংশে ইজতেমার মাঠে কাঁচা বাজার উচ্ছেদ, ক্যান্সার হাসপাতাল ও আইইউবিএটির মাঝ দিয়ে রাস্তার পূর্ব দিকের ব্যারিকেড সরাতে হবে।’
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত পার্কিংয়ে নিরাপত্তা সদস্য দিতে হবে।’
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করবে। রোগী পরিবহনের জন্য সার্বক্ষণিক ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ জানান, তাদের পক্ষ থেকে ইজতে মাঠে কন্ট্রোলরুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ যা করা প্রয়োজন সব কিছুর ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে সাত হাজার পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও রুফটপ থেকে পুরো ইজতেমা ময়দানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া স্পেশালাইডজ টিমসহ প্রতিটি খিত্তায় সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। অগ্নি নির্বাপণের জন্য প্রতিটি খিত্তায় এবার দুটি করে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা হবে। তুরাগে নৌ টহলও থাকবে।’
গাজীপুর জেলা প্রশাসন, সেনা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা, হাইওয়ে পুলিশ, গাজীপুর সিভিল সার্জন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ডেসকো, তিতাস গ্যাস, ওয়াসা, বিআরটি, ফায়ার সার্ভিস, জনস্বাস্থ্য বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত থেকে তাদের মতামত এবং পরামর্শ উপস্থাপন করেন।