চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:২৬ পিএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:৫৩ পিএম
পেনশনের টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে মনির আহমেদের মরদেহের দাফন আটকে ছিল। ছবি : প্রবা
পেনশনের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সন্তানদের মধ্যে বিরোধে জেরে আটকে ছিল মনির আহমেদের মরদেহের দাফন। পরে সেই বিরোধ নিষ্পত্তি করে প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বড় উঠান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ দিদারুল আলম।
তিনি বলেন, ‘মনির আহমদের পেনশনের টাকা নিয়ে তার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানের পর আজ (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।’
মনির আহমদ চট্টগ্রামের বড় উঠান ইউনিয়নের কেরানিবাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পদ্মা অয়েলে কাজ করতেন। গত বছর অবসরে যাওয়ার পর শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি।
চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, ‘মনির আহমদের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। অবসরে যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলীর ক্যানসারে ভুগছিলেন। এ সময় তার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর তার চিকিৎসার কোনো খোঁজখবর রাখেননি। তিন মেয়ে বেবি আক্তার, লিপি আক্তার ও জোৎসা আক্তারই তার চিকিৎসা করিয়েছিলেন। মারা যাওয়ার পর মনির আহমদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ তোলেন, বোনেরা তার বাবার পেনশনের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পেনশনের টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারার আগে তারা বাবার মরদেহ দাফন করতে দিচ্ছিলেন না। পরে আমরা স্থানীয়ভাবে বসে রবিবার রাতে বিরোধ মীমাংসা করি। এরপর আজ সকালে তার মরদেহ দাফন করা হয়।’
তিনি বলেন, মনির আহমদের ছেলেদের অভিযোগ—তাদের বাবার পেনশনের ৫০ লাখ টাকা থেকে বোনেরা ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে মেয়েদের দাবি, তারা তাদের বাবার কোনো টাকা নেননি। ওই টাকা মনির আহমদের চিকিৎসার পেছনেই ব্যয় হয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই মনির আহমদের মরদেহ দাফন না করে আটকে রাখে তার সন্তানেরা।’
মনির আহমেদের ভাগনে মহিউদ্দিন বলেন, ‘মামার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তার মেয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক থেকে দুটি অ্যাকাউন্টই আপাতত ফ্রিজ করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরে টাকা ভাগবাঁটোয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’