সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:০৮ পিএম
রবিবার সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাওরে বাঁধ নির্মাণে গঠিত জেলা কমিটির মতবিনিময় সভায় আলোচকরা। ছবি: প্রবা
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন হাওরে কৃষকদের পক্ষে থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে দ্রুত সব হাওরে বাঁধের কাজ শুরু এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে। সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ নির্মাণে গঠিত জেলা কমিটির এক মতবিনিময় সভায় এই তাগিদ দেওয়া হয়। রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় কাজের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার।
সভাপতি বাঁধের কাজের নানা বিষয় নিয়ে আরও বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ, হাওর বাচাও আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, জেলা কৃষক লীগের সদস্যসচিব বিন্দু তালুকদারসহ অনেকে।
সভায় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘এবার সুনামগঞ্জের ৪৮টি হাওরে বাঁধের কাজ হবে। ইতোমধ্যে ৯০৪টি প্রকল্প প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্যে জেলা কমিটি ১৯৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ৪০টিতে। এবার বন্যায় বাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্প ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘এবার ৬২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১০০ কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরের কাজের মধ্যে ২০১৭ সালে প্রকল্প ছিল সবচেয়ে বেশি, ৯৬৫টি। এবার এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এবারও হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় জরিপ ও প্রকল্প নির্ধারণে দেরি হয়েছে।’
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ বলেন, ‘হাওরে বাঁধ নির্মাণ একটি বিশাল কাজ। এটিতে প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তাদের ব্যাপক শ্রম দিতে হয়। হাওরের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজটিতে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এখনও অনেক স্থানে কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত সব হাওরে কাজ শুরু করতে হবে। কাজে আরও গতি বাড়াতে হবে।’
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘হাওরের বাঁধ নির্মাণের কাজটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সমাজের নানা শ্রেণি ও পেশার লোকজনের সমন্বয়ে করতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণেই হাওরের ফসল এবার আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জমিতে আবাদ বাড়াতে হবে। হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘এবার সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।’