অরুপ রতন, বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ২১:১৭ পিএম
বগুড়ার ৮ উপজেলায় বিভিন্ন হাইস্কুল ও মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন ২৪ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক। ছবি: এআই
বগুড়ার আটটি উপজেলায় বিভিন্ন হাইস্কুল ও মাদ্রাসায় ২৪ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক কর্মরত আছেন বলে সরকারি পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ আটজন রয়েছেন ধুনট উপজেলায়। তালিকায় বগুড়া শহরের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামও রয়েছে, যা নিয়ে শহরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সারাদেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা রবিবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য সনদে নিয়োগ, নিয়োগবিধি লঙ্ঘন, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট-আইটিসহ নানা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। কোথাও সনদের সত্যতা যাচাই না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও অভিযোগ ওঠার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী গাবতলী, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, শেরপুর, সদর ও সারিয়াকান্দি উপজেলার একাধিক প্রতিষ্ঠানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। গাবতলী উপজেলার গাবতলী মহিলা কলেজে একজন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক কর্মরত থাকার তথ্য রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া গেছে ধুনট উপজেলায়। এ উপজেলার ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ, ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, জোর শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়, ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বাঁশপাতা উচ্চ বিদ্যালয়, বেড়েরহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাহাটা আলহাজ কিয়ামুতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া সনদের তথ্য উঠে এসেছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলার অচৈলতা সম্মিলিত সিনিয়র মাদ্রাসা, থালতা মাঝগ্রাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, দমদমা আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বুড়ইল উচ্চ বিদ্যালয়েও অনিয়মের তথ্য রয়েছে। শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং রানীরহাট স্কুল অ্যান্ড কারিগরি কলেজের নামও তালিকায় এসেছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ, আটমূল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নান্দুড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেরপুর উপজেলার তাঁতড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বগুড়া সদর উপজেলার ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দাড়িয়াল মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, নওদাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও বুজরুগ মাঝিরা পাঁচ আউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার নাম উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষ করে শহরের অন্যতম পুরোনো ও পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম তালিকায় আসায় অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত তালিকায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে ২০২৫ সালের বিভিন্ন তারিখে পাঠানো স্মারক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিআইএ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে চিহ্নিত এসব অনিয়মের কারণে ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেহাত হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জবাব ও ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।