নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৩ পিএম
আদালত বর্জন করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সরকারি কাজে বাধা ও দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকনের মুক্তির দাবিতে বরিশালে আদালত বর্জন করেছেন সমিতির আইনজীবীরা।
আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোনও আদালতের কার্যক্রমে যোগদান করেননি। তবে আদালত চত্বরে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।
আইনজীবীরা কাজে যোগ না দেওয়ায় ভোগান্তিতে পরেছেন বিচার প্রার্থীরা। দূর থেকে এসে ফিরে গেছেন তারা। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এসময় আইনজীবীরা বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে ‘অন্যায়ভাবে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। সভাপতির মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
গত সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
এ ঘটনার জেরে আদালত চলাকালে আদালতে ঢুকে অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রাহমান লিংকনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার।
মামলায় আসামিরা হলেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন, অ্যাডভোকেট বশির উদ্দিন সবুজ।
মামলায় সাদিকুর রাহমান লিংকন গ্রেপ্তার হলে তার জামিন নামঞ্জুর করেন চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. জহির উদ্দিন। পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পাশাপাশি আগামী ২ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।
মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও দ্রুত বিচার আইনে করা একটি সুনির্দৃষ্ট মামলায় সাদিকুর রাহমান লিংকনকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা জামিন শুনানির জন্য আদালতে গেলে আদালত আগামী ২ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
মামলার বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আসামিরাসহ আনুমানিক ১৫/২০ জন আইনজীবী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত বর্জন ঘোষণা করে বিচারকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তারা বিচারকদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর বেলা আড়াইটায় আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তারা হট্টোগোল করেন। এতে ভীতিকর পরিবেশে সৃষ্টি হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, আসামিরা এজলাসে থাকা বসার বেঞ্চ দিয়ে ফেলে দেন এবং ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোন ভাংচুর করেন। এজলাসে থাকা কজলিস্ট, মামলা দায়ের রেজিস্টার ছিড়ে নষ্ট করে আদালত এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন। এছাড়া এজলাসে থাকা টেবিল ভেঙে ফেলেন, বসার টুল উপড়ে ফেলেন এবং উপস্থিত আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের কোর্ট থেকে বের করে দেন। বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করেন।