× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফাগুনের রাতে কিশোরগঞ্জে এক পশলা বৃষ্টি, কৃষকের মনে স্বস্তি

মধ্যাঞ্চলীয় অফিস

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৮ এএম

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে বুধবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে নামে প্রশান্তির এক বৃষ্টি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে বুধবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে নামে প্রশান্তির এক বৃষ্টি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফাগুন মানেই রঙের উচ্ছ্বাস, হালকা উষ্ণতা আর নতুন পাতার সবুজে ভরা প্রকৃতি। শীত বিদায়ের পর যখন বসন্ত তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, ঠিক তখনই এক পশলা বৃষ্টি নেমে যেন নতুন করে প্রাণ জাগাল কিশোরগঞ্জের প্রকৃতিতে।

দীর্ঘদিনের ধুলোমলিন গাছপালা ধুয়ে-মুছে সতেজ হয়ে উঠল, টিনের চালায় জমে থাকা ধুলো ঝরে পড়ল নরম জলের ছোঁয়ায়। ফাগুনের এই অল্প বৃষ্টি তাই শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, হয়ে উঠেছে স্বস্তি আর আশার বার্তা।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে বুধবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে নামে প্রশান্তির এক ঝরনা। সময়ের হিসাবে খুব বেশি নয়, বৃষ্টিও ছিল সামান্য। তবু তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট—প্রকৃতির পাশাপাশি প্রাণ ফিরেছে মানুষের মনেও। বিশেষ করে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

কৃষকের মুখে হাসি

যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামের কৃষক রতম মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে সেচের জন্য নিয়মিত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমন সময়ে এই সামান্য বৃষ্টিও তার কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

তার ভাষায়, “ফসলের জমিতে একটু পানি পড়লেই অনেক উপকার হয়। এই বৃষ্টি আমাদের খরচ কিছুটা হলেও কমাবে।”

একই ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আলাল মিয়াও বৃষ্টির উপকারিতার কথা তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, গাছ সম্পূর্ণ ভিজলে ফসল ভালো থাকে। বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হয়, তাই মাঝেমধ্যে এমন প্রাকৃতিক বৃষ্টি কৃষকের জন্য স্বস্তির খবর।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, এ সময়ের বৃষ্টি প্রায় সব ফসলের জন্যই উপকারী, বিশেষ করে বোরোধানের জন্য।

ধানচাষে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হওয়ায় প্রাকৃতিক বৃষ্টির বিকল্প নেই। এতে জমিতে সেচের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে, ফলে কৃষকের খরচও হ্রাস পায়, বলেন সাদিকুর রহমান।

অন্যদিকে নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাসুম জানান, এই বৃষ্টি আজ বা কাল পর্যন্ত থাকতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।

চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। ফলে এই মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ফাগুনের এই বৃষ্টি তাই কেবল ঋতুর সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, কৃষকের মনে বুনেছে স্বস্তির বীজও।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা