নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২৫ পিএম
হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নেন এমপি হান্নান মাসউদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের উপস্থিতিতে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এত পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুইঘণ্টা চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম। এ সময় নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কে বসে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন হান্নান মাসউদ। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ, দোকানপাট, মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও বিএনপির একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে যান নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। সেখান থেকে তার গাড়ি বহর ফেরার পথে প্রকল্প বাজারে বিএনপি ও এনসিপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে সংঘর্ষে হাতিয়া থানার পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামসহ বিএনপি ও এনসিপির প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে ফেরার পথে স্থানীয় বেলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা চালানো হয়।
“উনি সব ডাকাত ধরে ধরে এনে হাতিয়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসছে, সরকার উনাদের, কে কী করতে পারবে? আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেবে না”। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন মাসউদ।
অপরদিকে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, প্রকল্প বাজারে হান্নান মাসউদ উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা প্রথমে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু হলে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “উভয় পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে”।