× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিখোঁজ ১৭ জেলে: আড়াই বছরের অন্ধকারে ক্ষীণ আশার আলো

রাসেল মাহমুদ, বরগুনা

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৩ পিএম

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

নিখোঁজ ছেলে ইউনূস সরকারের ছবি হাতে নিয়ে কাঁদছেন মা তারাবানু। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নিখোঁজ ছেলে ইউনূস সরকারের ছবি হাতে নিয়ে কাঁদছেন মা তারাবানু। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ছেলে ইউনূস সরকারের ছোট্ট ছবিটা বুকে চেপে ধরে বসে আছেন তারা বানু। চোখে জমে থাকা অশ্রু মুছতে মুছতে বলেন, “বাবা তো ঝড়ের আট দিন আগেই সাগরে গেছিল। তারপর সাগর খেপে উঠল—আর কোনো খবর নাই। আড়াই বছর হইয়া গেল। এখন মানুষ কইতেছে, আমার পোলা নাকি ইন্ডিয়ার জেলে আছে। আল্লাহ যদি ফেরায়!”

বরগুনার উপকূলে এমন অপেক্ষা এখন ১৭টি পরিবারের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় নিভে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি খবরে আবারও জেগেছে ক্ষীণ আলো—নিখোঁজ জেলেরা নাকি ভারতের গুজরাটে একটি কারাগারে আটক আছেন।

নিখোঁজ  জেলে ইউনূস সরকার। ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিথিলা’র তাণ্ডবে  ‘এম বি এলাহী ভরসা’ নামের একটি  ট্রলারে থাকা  ইউনূসসগ ১৭ জেলে আর ফিরে আসেননি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঝড়ের রাতে হারিয়ে যাওয়া

২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিথিলা’র তাণ্ডবে উত্তাল হয়ে ওঠে বঙ্গোপসাগর। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই বরগুনা উপকূল থেকে মাছ ধরতে যায় ‘এম বি এলাহী ভরসা’ নামের একটি ট্রলার। সেই ট্রলারসহ ১৭ জন জেলে আর ফিরে আসেননি।

সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই মাছধরা ট্রলার ফিরে আসে। কিন্তু দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর—কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবারগুলো প্রথমে উপকূল, হাসপাতাল, থানা—সব জায়গায় খোঁজ করেছেন। পরে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, প্রিয় মানুষগুলো হয়তো আর নেই।

নতুন খবরে পুরোনো আশা

সম্প্রতি দাবি উঠেছে, নিখোঁজ ওই ১৭ জেলে ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের নামের একটি তালিকাও পাওয়া গেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

নিখোঁজ এক জেলের ছেলে মিরাজ জানায়, “ঝড়ের পর থেকে বাবার কোনো খবর পাইনি। একসময় ধরে নিয়েছিলাম বাবা আর নেই। এখন শুনছি তারা ভারতের জেলে আছে। 

“যদি সত্যি হয়, এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নাই। কিন্তু এত দিনেও সরকারের স্পষ্ট কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।”

স্ত্রী মারিয়াম বেগমের কণ্ঠেও একই আকুতি, “অনেক খোঁজাখুঁজি করছি। এখন শুনছি বরগুনা থানায় খবর আইছে, তারা গুজরাটের জেলে আছে। সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।”

স্বামীর অপেক্ষায় থাকা আফিয়া আক্তার জানান, ডিসি অফিসে নাকি একটি বার্তা এসেছে—এমন খবর শুনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। “ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কষ্টে আছি। সরকার যদি মানুষগুলারে ফিরায়, এই দুঃখ ঘুচে যাবে,” বলেন তিনি।

প্রশাসনের অবস্থান

বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, ১৭ জেলে গুজরাটের কারাগারে বন্দি আছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা আসেনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, “ভারতের কারাগারে পাওয়া গেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও হাতে আসেনি। সুনির্দিষ্ট তথ্য মিললে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন জানান, বিষয়টি যাচাই করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

উপকূলের চেনা বেদনা

উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, নৌপথ হারানো কিংবা অজান্তে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রমের কারণে জেলেদের বিদেশি কারাগারে আটক হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া—এটাই পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।

আড়াই বছর ধরে অনিশ্চয়তার ভেতর দিন গুনছে বরগুনার ১৭টি পরিবার। প্রিয়জনেরা সত্যিই ফিরবে কি না, কেউ জানে না। তবু ঘরের দরজা খোলা রেখে, বুকের ভেতর একটু জায়গা খালি রেখে তারা অপেক্ষা করে—হয়তো একদিন হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়বে সাগর থেকে ফেরা মানুষগুলো।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা