ঈদবাজার
তারাচরন টিপু, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৬ পিএম
ঈদের কেনাকাটায় উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে চট্টগ্রামের শত বছরের পুরনো টেরিবাজারে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে চট্টগ্রামের টেরিবাজারে উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে। চট্টগ্রামে কাপড় বিক্রির জন্য বিখ্যাত শত বছরের পুরনো টেরিবাজারে। গত এক দশকে টেরিবাজারে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক মার্কেট। যেখানে মিলছে নারী-পুরুষ ও শিশুদের যাবতীয় পোশাক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
সোমবার বাজারে ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি কাপড়ের পাশাপাশি রয়েছে খুচরায় বিক্রির প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে আছে অর্ধশতাধিক শপিংমল। প্রতিটি দোকান সাজানো হয়েছে বাহারি পোশাকে। পাওয়া যাচ্ছে দেশি-বিদেশি নিত্যনতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, গহনা, জুতা, কসমেটিকসসহ সব ধরনের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী। বিশেষ করে নারীদের ফ্যাশনেবল শাড়ি, থ্রি-পিস এবং বাহারি ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা এখানে বেশি। চীন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা সিকোয়েন্স পাঞ্জাবি, লিনেন, জামদানি, সুতি, শিপন ও প্রিন্ট কাপড়ের পাশাপাশি দেশি মানের পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আশা রোজী আক্তার বলেন, ‘এখানে একসঙ্গে সবার জন্য কেনাকাটা করা যায়। অনেক দোকান দেখে বুঝে-শুনে কেনা যায়। তাই এখানে আসি।’
অন্যদিকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা আরেক ক্রেতা আফরোজা বেগম বলেন, ‘অনেক দোকানে ঘুরেছি তবে কিছু দোকানে দাম বেশি মনে হয়েছে। আর দোকানগুলোতেও ভিড়ও অনেক।’
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারে ৯৩টি ছোট-বড় মার্কেট আছে। এসব মার্কেটে দুই হাজার থেকে প্রায় তিন হাজার দোকান আছেÑ যার মধ্যে ৯০ শতাংশ দোকানই কাপড়ের।’ গত বছর থেকে এবার ব্যবসা ভালো হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাজারের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে টেরিবাজারে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, সঙ্গে মহিলা পুলিশও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টেরিবাজারের সরু রাস্তায় যানজট নিরসন এবং নারী ও শিশু ক্রেতাদের সুবিধার জন্য অটোরিকশা ও ট্রাক চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল মনছুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা থেকে এসে এখান থেকে কাপড় কেনেন। সাধারণ ক্রেতারাও রমজানের আগে থেকেই পাঞ্জাবি, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন কাপড় কিনছেন। সবার সুবিধার জন্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রয়েছে।’