চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০২ পিএম
চট্টগ্রামের হালিশহরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে নুরজাহান আক্তার রানী নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: ফেসবুক থেকে
চট্টগ্রামের হালিশহরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকায় আনার পথে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লার কাছে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিস্ফোরণে দগ্ধ শাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ মিলন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, “চমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লার কাছাকাছি গেলে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে নুর জাহান আক্তার মারা যান। বাকিদের অবস্থা অপরিবর্তিত আছে। তাদেরকে ঢাকার বার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে”।
এর আগে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় হালিমা মঞ্জিল নামে ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। সে সময় পরিবারের সদস্যরা সেহরি করছিলেন বলে জানা গেছে।
দগ্ধদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক জানান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
চমেক বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা. মো. আসফাকুল আসিফ বলেন, “দগ্ধদের সবার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুসহ তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আইসিইউ সুবিধার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে”।
নিহত রানী ছাড়া বাকি দগ্ধরা হলেন— তার স্বামী শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), দুই সন্তান শাওন (১৭) ও আইমান (১০), ছোট ভাই সুমন (৪০), সুমনের স্ত্রী পাখি (৩৫), তাদের সন্তান আয়েশা (৪) ও আনাস (৭) এবং শিপন (৩২)।
তাদের মধ্যে পাখি ও সাখাওয়াতের শরীরও শতভাগ পুড়েছে। শিপনের ৮০ শতাংশ, সুমন ও শাওনের ৪৫ শতাংশ, আইমান ও আনাসের ২৫ শতাংশ এবং আয়েশার ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।