চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৩ পিএম
মার্চ মাস থেকে চসিক এলাকায় বাসাবাড়ির ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহে ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মার্চ মাস থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় বাসাবাড়ির ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহে ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে। ফলে এপ্রিল মাস থেকে বাসার ময়লা সংগ্রহের জন্য নগরবাসীকে আর ভেন্ডরদের আলাদাভাবে টাকা দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে সোমবার ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ে ভেন্ডরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
মেয়র বলেন, “চলতি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভেন্ডররা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করবেন এবং ফেব্রুয়ারির বকেয়া অর্থ মার্চ মাসে আদায় করবেন। তবে মার্চ থেকে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত দুই হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী সরাসরি বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। ফলে এপ্রিল মাস থেকে বাসার ময়লার জন্য নগরবাসীকে আলাদা করে কোনো অর্থ প্রদান করতে হবে না”।
সেবায় অসন্তোষ, তাই সিদ্ধান্ত
মেয়র জানান, নগরীতে উৎপাদিত বর্জ্যের একটি অংশ খাল-নালায় চলে যাওয়ায় শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে কয়েকটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বেসরকারি ভেন্ডরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেবা নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ পাওয়ায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “মার্চ থেকে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ পরিচালিত হবে”।
বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির উদ্যোগ
নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, “যত্রতত্র ময়লা ফেললে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। নির্ধারিত কর্মীদের হাতে নিয়মিত ময়লা দিলে মশার উপদ্রব কমবে এবং শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে”।
তিনি আরও জানান, চসিকের দুটি বর্জ্যাগারে জমা বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, গ্রিন ফুয়েল ও জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। শহর পরিষ্কার রাখতে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।