সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৮ এএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০০ পিএম
কিশোরগঞ্জের মানুরি টেক্সটাইল মিলসে তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের টেরি টাওয়েল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কিশোরগঞ্জের টেরি টাওয়েল (তোয়ালে) পৌঁছে গেছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে। কিশোরগঞ্জের মানুরি টেক্সটাইল মিলস নামে একটি প্রতিষ্ঠান মাসে পাঁচ লাখ ডলারের এই তোয়ালে রপ্তানি করছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগও।
উচ্চ শোষণ ক্ষমতা আর নরম ও আরামদায়ক টেক্সচারের কারণে মানুষের কাছে বিশেষ করে বিদেশিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই তোয়ালে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের হোটেল, হাসপাতালগুলোতে স্থান করে নিয়েছে এই তোয়ালে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া এলাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) মানুরি টেক্সটাইল মিলসের তিনটি কারখানা রয়েছে। এখানে প্রথমে তাঁত মেশিনে তোয়ালে বোনা হয়। পরে তা ওয়াশ হয়ে ফাইনাল ফিনিশিংয়ে চলে যায়। সেখান থেকে বায়ারের চাহিদা অনুযায়ী প্যাকেজিং হয়ে চলে যায় বিভিন্ন দেশে। প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ইউনিটে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করছেন। যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকবছর আগে কিশোরগঞ্জে জেমিনি টেক্সটাইল নামে তোয়ালে উৎপাদনের একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। যার তোয়ালের নাম ছিল সারাদেশে। কিন্তু অনেক দিন আগেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে কিশোরগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীতে মানুরি টেক্সটাইল মিলস গড়ে তোলেন সদর উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের এ কে এম মাহফুজুর রহমান বাপ্পী। মানুরি টেক্সটাইল মিলস নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতিষ্ঠানের তোয়ালের মান নির্ণয়ে কাজ করে আসছে শ্রমিকরা। প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের অনেক সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় উৎপাদন বাড়াতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। মিলের জন্য নতুন যন্ত্রাংশ কেনা হলেও ব্যবহার না করে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এতে ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা।
সুয়িং ইনচার্জ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, “আমি এই প্রতিষ্ঠানটির সুয়িং ডিপার্টমেন্টের হিসেবে দায়িত্বে আছি। ডাইং থেকে তোয়ালে এখানে এসে লং কাটিং শুরু হয়। পরে এখানে রিভিং হয়ে শর্ট কাটিং হয়। শর্ট কাটিংয়ের পর তোয়ালে সাকসুয়িং হয়। পরে কোয়ালিটি গ্রেডিং করা হয়। সেখান থেকে প্যাকিং হয়ে শিপমেন্টে চলে যায়। সুইং ডিপার্টমেন্টে প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করেন।”
মানুরি টেক্সটাইল মিলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ কে এম মাহফুজুর রহমান বাপ্পী বলেন, “২০০৯ সাল থেকে আমি এই ব্যবসা শুরু করেছিলাম। কিশোরগঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রামে আমার একটি তোয়ালে উৎপাদন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের উৎপাদন এবং ব্যবসা ভালোভাবেই চলছে। আমার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত তোয়ালে প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব এবং কানাডায় রপ্তানি হয়। এই তোয়ালে হোটেল, হাসপাতাল ও বাড়িতে ব্যবহার করা হয়।”
তিনি বলেন, “আমাদের এখানে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তোয়ালে উৎপাদন করা হয়। প্রতি মাসে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ ডলারের তোয়ালে রপ্তানি হয়। প্রথমে আমি আশপাশের প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কর্মরত।”
তিনি আরও বলেন, গত বছরে ১২টি মেশিন বিদেশ থেকে এনেছি। এগুলোতে উৎপাদন কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠান করতে যে জায়গা আমরা বিসিক থেকে পেয়েছি সেই জায়গায় আমাদের হচ্ছে না। বিসিক থেকে আরও জায়গা পেলে প্রতিষ্ঠান বড় করতে পারব। এতে এই এলাকার নতুন লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। তবে হঠাৎ করে গ্যাস ও সুতার মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ কম হচ্ছে। এ কারণে আমাদের পাশের দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকার যদি এ বিষয়ে নজর দেয় তাহলে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের অবস্থান আরও ভালো হবে।”
কিশোরগঞ্জ বিসিকের শিল্পনগরী কর্মকর্তা খুদেজা আক্তার বলেন, “এখানে যারা প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। যদি তাদের প্লটের প্রয়োজন হয় ওইখানে মিটিংয়ে ব্যবস্থা হলে প্লট পাবে। ভালো না হলে তো আর বিদেশে রপ্তানি হতো না। উনাদের কোনো লস নেই।”