রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৬ এএম
জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত চৌক্কার খাল পুনঃখননের দাবি এলাকাবাসীর। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লবলং খালের একটি শাখা অংশ চৌক্কার খাল (গড়গড়িয়া খাল)। এই খালটি খনন করতে সশরীরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তবে তার নিজ হাতে কোদাল দিয়ে কাটা সেই খালটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। এলাকাবাসী জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখননের দাবি তুলেছেন।
জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি উপজেলার দোখলা বাজার থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি পূর্বদিকে ছাপিলাপাড়া হয়ে ভাংনাহাটি গ্রামে গিয়ে কৃষিজমিতে মিশেছে। ১৯৭৮ সালের দিকে খালটি খননের জন্য সরাসরি এলাকায় এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, ওই সময় শ্রমিকদের গম দেওয়ার বিনিময়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়। জিয়াউর রহমান গাড়ির বহর নিয়ে ছাপিলাপাড়া অংশে আসেন। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন। তাকে মাটি কাটতে দেখে শ্রমিকরা বিস্মিত হন। সেই ঘটনা এখনও এলাকাবাসীর মনে আছে। চৌক্কার খাল শুধু একটি জলাধার নয়; এটি কৃষি, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। যথাযথ পুনঃখনন, দখলমুক্তকরণ ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হলে খালটি আবারও সেচ, মাছ চাষ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তৎকালীন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হেলিম বলেন, জিয়াউর রহমান গাড়ির বহর নিয়ে ছাপিলাপাড়া অংশে আসেন। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন। তাকে মাটি কাটতে দেখে শ্রমিকরা অবাক হন। সে সময় তোলা কিছু ছবি দীর্ঘদিন অনেকের কাছে সংরক্ষিত থাকলেও পরে নষ্ট হয়ে যায়। সেতুর উজানে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি কারখানা নির্মাণের সময় খালের অংশ ভরাট করা হয়েছে। এতে কৃষকরা ধান চাষ করতে পারছেন না। পাশাপাশি আশপাশের অন্তত ২০টি কারখানার বর্জ্য খালে পড়ছে। ফলে পানি দূষিত হয়ে কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ পানির ক্ষতি হচ্ছে।
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, বর্তমানে খালগুলো কারখানা ও নাগরিক বর্জ্যের স্থানে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের মূল্য দিচ্ছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই শিল্পাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা দরকার।