সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৬ পিএম
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীনও পদ্মায় অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ ধরেছেন জেলেরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে আড়াআড়ি বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করে জাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অবাধ নিধন চলছে।
সরেজমিনে বরিবার দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী, আকোটের চর, চর নাসিরপুর ও দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের বালুচরের মধ্যবর্তী জলমহালে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত সারি সারি বাঁশ পুঁতে দীর্ঘ ফাঁদ বসানো হয়েছে। এসব ফাঁদ থেকে কয়েক ঘণ্টা পরপর মাছ তুলে অসাধু জেলেরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন।
এই বাঁধে শুধু জাটকাসহছোট-বড় সব ধরনের মাছও আটকা পড়ায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের সংখ্যাও কমছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ বাঁধ মাছের প্রজনন চক্রের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে এবং নৌযান চলাচলে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তারা দ্রুত বাঁধ অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ১০ ইঞ্চির নিচে জাটকা ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে অনধিক ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীনও পদ্মায় অবৈধ বাঁধ দিয়ে জাটকা নিধন অব্যাহত থাকায় নজরদারি ও অভিযান কার্যকারিতার প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, এভাবে চললে আগামী বছরে ইলিশ উৎপাদনে বড় ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও নদীনির্ভর জেলেদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ অপসারণে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।