কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫২ পিএম
স্বজনরা রবিবার ভোরে ধান ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন লতিকা বৈদ্য। প্রতীকী ছবি
খুলনার কয়রা উপজেলায় ধান ক্ষেতে পেতে রাখা অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লতিকা বৈদ্য (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ধান ক্ষেত থেকে রবিবার সকাল ৭টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত লতিকা বৈদ্য মহেশ্বরীপুর গ্রামের বরুণ বৈদ্যের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত রাজকৃষ্ণ রায়ের ছেলে নিরুদ রায় ধান ক্ষেতে ইঁদুর মারার জন্য পাশের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখেন। লতিকা বৈদ্য শনিবার সন্ধ্যায় গরু খুঁজতে গিয়ে আর বাড়িতে ফেরেননি। স্বজন ও এলাকাবাসী রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
স্বজনরা রবিবার ভোরে নিরুদ রায়ের ধান ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান, বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিরুদ রায়কে দায়ী করছেন নিহতের পরিবার।
উপজেলায় অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। গত বছর দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা গ্রামে ধান ক্ষেতে বন্যশূকর মারার জন্য পেতে রাখা বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন পিতা, মাতা ও পুত্র প্রাণ হারান। এছাড়া ২৩ অক্টোবর ৩ নম্বর কয়রা গ্রামে ধান ক্ষেতে অবৈধ বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। গত বছর উপজেলায় এমন ঘটনায় মোট ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো এর কয়রা উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম বলেন, ফসল রক্ষার্থে এভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, ফসল বাঁচাতে গিয়ে মানুষের প্রাণ নেওয়ার অধিকার কারও নেই। প্রশাসনকে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করতে হবে এবং অবৈধ সংযোগদাতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।