কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৩ পিএম
সম্পত্তি নিয়ে সন্তানদের বিরোধের জেরে ৩০ ঘণ্টা পর দাফন হয় এক বাবার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার কাছারী পায়ড়াডাঙ্গা বাজার এলাকায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা মরদেহ পড়ে থাকার পর অবশেষে সালিশের মাধ্যমে দাফন হয়েছে বাবার। স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা ও উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর বুধবার রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে মরহুম আজিজার রহমানকে দাফন করা হয়।
আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠায় জানাজা স্থগিত হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনভোলা ওরফে আব্দুল হাকিমের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে আব্দুল হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টনের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। ফলে মরদেহ বাড়ির আঙিনায় কাফন পরানো অবস্থায় খাটিয়ায় পড়ে থাকে।
দিনভর স্থানীয় মুরুব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফা বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে।
অবশেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বাড়িভিটা সংক্রান্ত ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে। এছাড়া আবাদি জমি আইনানুগ পদ্ধতিতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন বলেন, “আমি যতটুকু শুনেছি, ছোট ছেলে টাইগার ৭/৮ বিঘা জমি লিখে নেয়। সেটিকে কেন্দ্র করেই দাফনে বাধা দেওয়া হয়”।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুর রহমানের দাবি, “ছোট ছেলে টাইগার ও তার বোন আকলিমা ৮৪ শতক জমি গোপনে লিখে নেয়। প্রথম স্ত্রীর সন্তান আব্দুর রহমান ওরফে মনভোলাকে বঞ্চিত করা হয়। এ কারণেই তিনি দাফনে বাধা দেন। তবে এলাকাবাসী সমাধান করলেও টাইগার তা মানছেন না”।
সমঝোতার পর রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধ থাকলেও একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অমানবিক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, “এ ঘটনায় থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি”।