তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১২ পিএম
চলতি বছরে যশোরে ফুল উৎপাদন ছিল রেকর্ড পরিমাণ। অনুকূল আবহাওয়ায় গোলাপ ও গ্লাডিওলাসের ফলন ভালো হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুল উৎপাদন হয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে। প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন এবং একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এ বাজারে জমে ওঠে ফুল বেচাকেনার উৎসব। তবে এবার নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে তিন দিবসেও সেই চিরচেনা জমজমাট পরিবেশ দেখা যায়নি।
সাধারণত ফাল্গুনের সকালে গদখালীর মোকামে উপচে পড়ে ভিড়। ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই শত শত চাষি সাইকেল, ভ্যান ও ছোট ট্রাকে করে ফুল নিয়ে হাজির হন। গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা ও গাঁদার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পাইকাররা ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করেন।
কিন্তু এবারের পহেলা ফাল্গুনে বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফুলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা ছিল না।
হতাশ চাষিরা
ফুলচাষি হাবিবুল্লাহ বলেন, “ফাগুনকে ঘিরেই আমাদের বড় প্রস্তুতি থাকে। কয়েক মাস আগে থেকেই জমিতে বাড়তি পরিচর্যা করি। আমরা ভেবেছিলাম বাজার জমবে। কিন্তু মানুষ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ফুল কেনায় তেমন আগ্রহ দেখায়নি”।
চাষি জোনাব আলী জানান, “তিন মাস ধরে বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ, সার ও পরিচর্যায় বেশি খরচ করেছি। কিন্তু ফাগুনের দিন সেই চাহিদা পাইনি”।
পাইকারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ফাগুনের আগের রাত পর্যন্ত বড় অর্ডারের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু নির্বাচনি ব্যস্ততায় অনেক অনুষ্ঠান সীমিত হয়েছে। ফলে বিক্রি আশানুরূপ হয়নি”।
ফুলসারা মাঠের একাধিক চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরে যশোরে ফুল উৎপাদন ছিল রেকর্ড পরিমাণ। অনুকূল আবহাওয়ায় গোলাপ ও গ্লাডিওলাসের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদা কম থাকায় দাম পড়ে গেছে। শনিবার বাজারে গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১২ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা ও গাঁদার দামেও ছিল উল্লেখযোগ্য পতন।
ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির নেতা ইসমাইল বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে এবারের ফুলের উৎসবের দিনগুলো পড়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ক্রেতারা কম এসেছে। স্থানীয় বাজারেও চাহিদা কম থাকায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। সব মিলিয়ে এবার আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি”।
চাষিদের আশঙ্কা, সামনে একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরেও যদি বাজার চাঙ্গা না হয়, তবে লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে। তবে তারা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে চাহিদা কিছুটা বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।