মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০১ পিএম
গত চার বছরের মতো এবারেও কেনা রোজায় কেনা দামে পণ্য বিক্রি করবেন ব্যবসায়ী শাহ আলম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পবিত্র রমজান মাস এলেই যখন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ ওঠে, তখন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আবারও সামনে এলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. শাহআলম। টানা চতুর্থ বছরের মতো এবারও তিনি রমজানে পণ্য বিক্রি করছেন কেনা দামে—কোনো লাভ ছাড়াই।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার চরকুমিরা গ্রামের চালতাতলা সুপার মার্কেটে তার ছোট মুদির দোকানে রমজানের শুরুতেই ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের ক্রেতারা। শাহআলম জানান, পণ্য কেনা ও পরিবহন খরচ যোগ করে তিনি ক্রয়মূল্যেই বিক্রি করছেন ছোলা, চিনি, তেল, চিড়া, মুড়ি, খেজুরসহ রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
তিনি বলেন, “দুই বছর ১ টাকা লাভে বিক্রি করেছি। গত বছর থেকে ক্রয়মূল্যে বিক্রি শুরু করেছি। এই বছরও একইভাবে বিক্রি করছি। এলাকার মানুষ শান্তিতে কিনতে পারলে আমিও শান্তি পাই”।
দোকানে টানানো মূল্যতালিকা অনুযায়ী—
রমজানে তার দোকানে নিয়মিত ২০০-৩০০ গ্রাহকের বদলে ৮০০ থেকে ১ হাজার ক্রেতা আসছেন বলে জানান তিনি।
গ্রাহকদের সন্তুষ্টি
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “আল্লাহর রাসূল বলছেন, তোমরা রমজানে কারোর উপর জুলুম করবা না এবং সীমিত ব্যবসা করবা। শাহ আলমের দোকানে ইফতারের জন্য সবকিছুই পাওয়া যায়। আমরা সবাই এখানে খরিদ করি। বাজারে মানুষ রোজার মাস আসলে দ্রব্য মূল্যের দাম অনেক বাড়ায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে শাহ আলম সীমিত ব্যবসা করে”।
আরেক বাসিন্দা লিপি হোসেন বলেন, “সব ব্যবসায়ী যদি উনার মতো উদ্যোগ নিতেন, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজান কাটাতে পারত”।
ক্রেতা রফিক বলেন, “আমরা অনেক সন্তুষ্ট খুব কম দামে জিনিসগুলো কিনতে পেরে। এতটুকুই আমি বলতে চাই, সব ব্যবসায়ীরা যে আপনারা চেষ্টা করবেন কম রেটের মধ্যে জিনিস বিক্রি করার জন্য”।
বিক্রয়কর্মী মনির হোসেন বলেন, “আমি এ রোডে আসি, দোকান ভিজিট করি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ টা। তার মধ্যে শাহ আলম ভাই একটু ব্যাতিক্রম। কারণ উনি এদিকে আসলে আমার কাছ থেকে বেশি মাল নেয়। রমজান মাসে কেনা দামে বিক্রি করে। আমিও কোম্পানি থেকে ছাড় দেই”।
সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতা
শাহআলমের এই উদ্যোগ আগেও প্রশংসিত হয়েছে। তাকে সততার জন্য সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। কেউ অবৈধ মজুত বা অতিমুনাফা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শাহআলমের মতো উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রত্যাশা
শাহ আলম বলেন, “আজকে চার বছর মাল বিক্রি করা আরম্ভ করলাম। মোটামুটি আলহাদুল্লিল্লাহ অনেক সাড়া পাইতাছি। এলাকার গরীব-দুখী মানুষ মাল ক্রয় করে শান্তি পাইতাছে, আমিও বিক্রি করে শান্তি পাই। আলহামুলিল্লাহ আমি যেন এই প্রচলনটা প্রতিবছর রাখতে পারি”।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি চাই, আমি যে রকম রমজান আসলে মালের দাম কমিয়ে দেই, সারা বাংলাদেশে যতবড় ব্যবসায়ী আছে, তারা যেন রমজান মাস আসলে মালের দাম কমিয়ে দেয়। গরীব-দুখী মানুষ মাল ক্রয় করে খাইতে পারে”।