গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৪২ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৩৮ পিএম
শিকলে বাঁধা লিটন বেপারী। ছবি : প্রবা
কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বিস্তীর্ণ শালবন। এই বনের মধ্যে একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তিকে। নাম তার লিটন বেপারী। গেল ৩-৪ মাস ধরে বনের মধ্যেই কাটছে দিন-রাত।
লিটন বেপারী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ওন্দারচালা গ্রামের ফজল বেপারীর ছেলে। ১০ বছর আগে তার মা মারা যান। এর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সড়ক থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে গাছের সঙ্গে বাঁধা লিটনের কাছাকাছি যেতে না যেতেই কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এলেন। কথা বলে জানা গেল, তারা লিটনের সৎ মা, বড় বোন ও ভগ্নিপতি।
লিটনের কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করার সময় একজন পেছন থেকে চিৎকার করে বললেন, ‘সামনে যাবেন না। সে আপনাকে মারবে। কামড় দেবে।’ উপেক্ষা করে ফের সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে হাত নেড়ে লিটনই নিষেধ করলেন।
সেখানেই কথা হয় লিটনের বড় বোন ডলির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগে মা মারা যান। এর পর থেকে আমার ভাই ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে। মাঝেমাঝে পাগলামি করত। জুট মিলে চাকরি করত, সেটাও ছেড়ে দেয়। এলাকার মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করত। বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলত। বাধ্য হয়ে পরিবারের সবার সম্মতিতে গত ৩-৪ মাস এখানে বেঁধে রেখেছি।’
লিটনের সৎ মা বলেন, ‘অনেক দিন বাসায় রেখেছি। গ্রামের ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে অবস্থা খারাপ। বাচ্চাদের মারধর করে। চিকিৎসা করানোর মতো টাকা আমাদের নেই।’
কালিয়াকৈর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কাশেম আলী বলেন, ‘লিটনরা আমাদের এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করেছে। এক সময় ও চাকরি করতো। শুনেছি তারা কবিরাজের চিকিৎসার জন্য ওখানে রেখেছে। আমার তরফ থেকে কোনো সহযোগিতা লাগলে অবশ্যই করব।’