চম্পক কুমার, জয়পুরহাট
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪১ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৩ পিএম
জয়পুরহাট-১ আসনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে জামানত হারাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা। নির্বাচনি লড়াইয়ে 'স্বতন্ত্র কাঁটা' হয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধারের কাছেও ভিড়তে পারেননি তিনি। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নির্ধারিত সীমার নিচে হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তিনি জামানত হারাচ্ছেন।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, এই আসনে মূল লড়াই হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ রানা প্রধান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোট। অন্যদিকে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ভোট পেয়েছেন মাত্র ১৩ হাজার ২৮৬টি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে তিনি জামানত ফেরত পাবেন না। তার জামানতের অর্থ সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। জয়পুরহাট-১ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৬। সেই হিসেবে জামানত বাঁচাতে হলে একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ৪২ হাজার ৬৯৪ ভোট পেতে হতো। কিন্তু সাবেকুন নাহার সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পরেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া স্বাক্ষরিত ফলাফলে দেখা যায়, বামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের অবস্থাও শোচনীয়। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ প্রার্থীরা এক হাজার ভোটের কোটাও পার করতে পারেননি। বাসদ-মার্কসবাদী প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৬১৭ ভোট এবং বাসদ প্রার্থী ওয়াজেদ পারভেজ মই প্রতীকে ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। সেই হিসেবে তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত হবে।
অন্যদিকে, জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বারী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এসএম রাশেদুল আলম পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছাড়া এবি পার্টির এসএ জাহিদ পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ৫৫৫ ভোট। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৬০। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ৩২ হাজার ২৭০ ভোটের প্রয়োজন ছিল। তবে এই ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তিনিও জামানত হারাচ্ছেন।