আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৮ পিএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৩ পিএম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বর্তমান সংসদে সবচেয়ে বেশিবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের তালিকায় সবার উপরে চলে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। একাধারে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, তুখোড় ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ রাজনীতিতেও এক অনন্য মানুষ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি তৃতীয় জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অস্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা সদস্য নির্বাচিত হন। ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চার দলীয় জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে ওই মন্ত্রিসভায় তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির সংস্কারবাদী অংশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আবার মূলঃ দলে ফিরে এসে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলেন মেজর হাফিজ। এ সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময়ে তাকে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।
মেজর হাফিজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বপূর্ণ পুরষ্কার, বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ফুটবলার এবং পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্বকারী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজনের মধ্যে একজন । খেলাধুলায় তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাকে ফিফা কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ সম্মান, ফিফা অর্ডার অফ মেরিট প্রদান করা হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বাবা ডা. আজহারউদ্দিন ভোলা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন । উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি জনসেবায় এসেছেন। তিনি তার নির্বাচনি এলাকা ভোলা-৩ আসনের লালমোহন, তজুমদ্দিন ছাড়াও ভোলা শহর রক্ষাসহ উন্নয়নমুখী নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।