বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৩ পিএম
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটেনি বগুড়ার অনেক নারী ভোটারের। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি আসনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচন ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটেনি অনেক নারী ভোটারের।
জেলায় মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন, যা পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জনের চেয়েও বেশি।
এ কারণে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি একাধিক আসনের ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, নারীদের উদ্বেগ
বগুড়া-১ আসনে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৭ জন এবং বগুড়া-২ আসনে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫১ জন। বগুড়া-৩, ৪, ৫ ও ৬ আসনেও নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় সামান্য বেশি। একমাত্র বগুড়া-৭ আসনে পুরুষ ভোটার সংখ্যায় কিছুটা এগিয়ে।
সংখ্যায় নারী ভোটাররো এগিয়ে থাকলেও শাজাহানপুর, শেরপুর ও কাহালু উপজেলার কিছু কেন্দ্রকে নারীরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। ভোটের দিন কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা, ভিড় বা সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যেতে দ্বিধায় রয়েছেন।
শহরের কাটনারপাড়া এলাকার গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, “ভোট আমাদের অধিকার। কিন্তু পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি। কেন্দ্রে ঝামেলা হলে নারীদের নিরাপদে থাকা কঠিন।”
শেরপুর উপজেলার এক নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভেতরে সমস্যা না হলেও বাইরে পরিস্থিতি খারাপ হলে নারীরা ঢুকতেই ভয় পায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ভোট দিতে যাব।”
শাজাহানপুরের মাঝিরা এলাকার বাসিন্দা রত্না খাতুন বলেন, পরিবার থেকেও অনেক সময় আমাদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তবে সিসি ক্যামেরা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলে অন্তত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।
বগুড়া শহরের কলেজছাত্রী ইসমত জেরিনা বলেন, “সব কেন্দ্রে যদি সত্যিই সিসি ক্যামেরা থাকে এবং সেনাবাহিনী-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকে, তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিরাপদ পরিবেশ হলে নারী ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়বে।”
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আশ্বাস
জেলা নির্বাচন ও পুলিশ সূত্র জানায়, বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৩১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪৮৩টি সাধারণ কেন্দ্র।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি শাজাহানপুর উপজেলায়—৪৬টি।
বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসারের সমন্বিত উপস্থিতি থাকবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটের দিন সেগুলো কার্যকর থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ৬০০-এর বেশি সেনা সদস্য, ৩২০ জন বিজিবি সদস্য এবং ২৪০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার সাতটি আসনের ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৪৭৮টি—এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮টি স্থায়ী এবং ৩৩০টি অস্থায়ী।