মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১৭ এএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪১ এএম
ইনকিলাব মঞ্চের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হয় কিশোরগঞ্জের শহীদী মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীর ওপর 'হামলা'র প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী সমর্থকরা।
জেলা শহরের শহীদী মসজিদের সামনে থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আখড়া বাজার চত্বরে শেষ হয়।
এর আগে, মসজিদের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ইনকিলাব মঞ্চ। এতে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভে হাদি হত্যার দ্রুত বিচার এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের এমন 'হামলা'র প্রতিবাদ জানান তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীদের ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’,‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘পুলিশ লীগের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ‘,ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ফয়সাল প্রিন্স, জেলা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক মুজাহিদ বিল্লাহ, মাওলানা এ কে এম নাজিমুদ্দিনসহ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাদী হত্যার বিচার দাবি করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, হাদি হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচিতে পুলিশলীগের ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা জানাই। ফ্যাসিস্ট শাসনামলেও এমন নৃশংস হামলা দেখিনি। আমরা জানতে চাই, ইন্টেরিম ও পুলিশ কার স্বার্থে হামলা করেছে?
জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমরা ভেবেছিলাম পরিবর্তন আসবে, কিন্তু ইন্টেরিম সরকারও সেই সংস্কার আনতে পারেনি। পুলিশের দমননীতি এখনো অব্যাহত। যারা মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তারা আজ সেই মানুষেরই উপর গুলি চালাচ্ছেন।
আমরা চুপ থাকব না। অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।