নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২১ পিএম
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জেলার রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ জানায়, চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া। এর আগেও এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বালুরচর গ্রামের এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং গুলিবর্ষণ শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় অন্তত চারটি ঘর পুড়ে যায়।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, মুস্তাকিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।
আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সন্তান হত্যার বিচার চান মা
নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, “সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম তাকে গুলি করে। আমরা কোনো পক্ষের না। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”