ইনকিলাব মঞ্চের সতর্কবার্তা
ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৯ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বার্তা দেন।
‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে’, বলেন জাবের।
ওই সময় হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় গড়িমসি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান জাবের।
হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পঞ্চমবারের মতো পিছিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করে আদালত। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাবের বলেন, “শহিদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই, আর কতদিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?”
ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতার অভিযোগ, মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে তদন্তের অগ্রগতি জানানো হচ্ছে না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর নকল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করে জাবের বলেন, এমন বাস্তবতায় তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করবেন না।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদিকে গুলি করার ৫৩ দিন পার হলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি; বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের নজির টেনে তিনি বলেন, লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যার মতো ঘটনাও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত হয়েছিল।
প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব।
তার ভাষ্য, ‘গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। ড. ইউনূস যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহিদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?’
‘সিসি ক্যামেরা বসালেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাবের বলেন, ‘শুধু সিসি ক্যামেরা বসালেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।’
ওই সময় অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা।