মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২২ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভূবিরচর গ্রামে সোমবার রাতে তিন কৃষকের খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জে এক রাতে তিন কৃষকের খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই রাতে গরুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষিত তিনটি খড়ের গাদায় আগুনের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভূবিরচর গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম, তার ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম ও একেই এলাকার হারুন মিয়া ধান মাড়াইয়ের পর গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে জমিয়ে বাড়ির পাশে খড়ের গাদা তৈরি করে রাখে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে নজরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই শফিকুল ইসলামের বাড়িতে দুটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় আগুন দেখে লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন। তার আগেই বেশিরভাগ খড়ের গাদা পুড়ে যায়।
এই ঘটনার এক ঘণ্টা পর একেই এলাকার কৃষক হারুনের খড়ের গাদাতেও আগুনের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে খড়ের গাদায় আগুন ছড়িয়ে যায়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আতঙ্ক বা নাশকতা সৃষ্টির জন্য এই আগুন লাগানো হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির আঙিনায় রাখা খড়ের পালায় রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়, যা মুহূর্তে খড়ের পালায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ লোকজনের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার খড়ের গাদায় আগুন। লোকজন এগিয়ে এসে দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। আমার এখানে আগুন লাগার এক ঘণ্টা পরেই খবর আসে আরও একটি স্থানে আগুন লেগেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমরা সবাই ঘুমিয়েছিলাম, হঠাৎ চারদিক চিৎকার শুরু হয়। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার খড়ের গাদায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এমন হলে জানমালের নিরাপত্তা থাকল কই?
স্থানীয় বাসিন্দা রাবুল হোসেন বলেন, আগুন লাগার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। নজরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাইয়ের খড়ের গাদায় আগুন নেভাতে প্রায় ৫০০ মানুষ এসেছিলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই একই এলাকার হারুন মিয়ার বাড়ি থেকে খবর আসে, সেই জায়গায় আগুন লেগেছে।
রাবুল আরও বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে এতগুলো বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। এলাকায় পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরালো করতে হবে। বিশেষ করে রাতে পুলিশ এলাকা প্রদক্ষিণ করলে অপরাধীরা অপরাধের সাহস করবে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি দুঃখজনক ঘটনা। এভাবে গো-খাদ্য পুড়িয়ে ফেলা উচিৎ নয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।