দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৫ পিএম
দিনাজপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসা তিন প্রার্থীকে আটক করে জেলা প্রশাসন জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
সন্দেহের জেরে ১১ পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৮ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে , গোলাম রাফসানী, মোছা.খাদিজ খাতুন ও মানস চন্দ্র রায় আটক করা হয়।
আটককৃতদের সোমবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী।
লিখিত পরীক্ষা ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এবং ফল ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। দিনাজপুর জেলায় মোট ২ হাজার ৫০০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এরপর ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মৌখিক পরীক্ষা চারটি বোর্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রবিবার মোট ৪০০ জনের ভাইভা নেওয়া হচ্ছিল। এসময় গোলাম রাফসানী লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। পরে তিনি স্বীকার করেন, লিখিত পরীক্ষায় নিজে অংশ নেননি, বরং ফয়সাল আহমেদ নামে একজন তার হয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন।
একই ঘটনায় আটক হওয়া মোছা.খাদিজ খাতুন বিরামপুর উপজেলার ২ নং কাটলা ইউপির দক্ষিণ কাটলা গ্রামের মো. রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুল হাসান জানান, আটক হওয়া মানস চন্দ্র রায় লিখিত পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মনিরুল ইসলাম রুবেল নামে এক ব্যক্তি তাকে ডিভাইস সরবরাহ করেছিলেন।
হাবিবুল হাসান আরও জানান, গোলাম রাফসানী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। চাকরি নিশ্চিত করার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। লেনদেনটি আশরাফুল নামের ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।
এর আগে লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি ও ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে ১৮ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ তিন মাস ধরে যৌথভাবে এই চক্রকে ধরতে কাজ করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কয়েকজন কর্মচারী এবং কিছু শিক্ষক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ভবিষ্যতে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।