নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১০ পিএম
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরী উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন আহত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি আছেন।
নলছিরা ফেরি ঘাট এলাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম। তবে তাৎক্ষনিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “ফেরী উদ্বোধন উপলক্ষে বিএনপি ও এনসিপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নলচিরা ঘাটে জড়ো হন। এ সময় উদ্বোধনের কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে”।
নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন বলেন, “ফেরী চালুর কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে বেশকয়েক আহত হন”।
ঘটনার পর এনসিপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। অন্যদিকে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ঘটনার জন্য এনসিপিকে দায়ী করেছে।
ফেরী উদ্বোধনের সময় নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “পরিকল্পিতভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে”।
আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে হাতিয়া থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম বলেন, “ফেরী চালু হওয়া হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর এনসিপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছে”।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “মারামারির খবর শুনেছি। আমি তখন চেয়ারম্যান ঘাটে ফেরী উদ্বোধনের প্রোগ্রামে ছিলাম। তবে আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হব ”।