× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রত্নসম্পদ

নয় বছরেও দখলমুক্ত হয়নি ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়ি

মোহাম্মদ মিশুক হাসান, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৫ এএম

নাচোল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নেত্রী ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়ি

নাচোল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নেত্রী ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়ি

সংরক্ষণের অভাব, দখলদারদের বাধা ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে নাচোল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নেত্রী ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়ি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্মারক। বাড়িটিকে প্রত্নসম্পদ ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ পায়। কিন্তু নয় বছর পেরিয়ে গেলেও দখলমুক্ত হয়নি নাচোলের রানিমা খ্যাত এই বিপ্লবীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি। এমনকি বাড়িটি যারা ভোগদখল করছেন তাদের বাধায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাইনবোর্ডও দিতে পারেননি। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে সচেতন মহল।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কুমার নদের পাশে প্রত্যন্ত গ্রাম বা গুটিয়া। এই গ্রামের রায়পাড়ায় কাঁচা রাস্তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা পুরাতন একটি দ্বিতল বাড়ি। এলাকার অধিকাংশ মানুষ জানেন না বাড়িটির ইতিহাস। গ্রামের গুটিকয়েক মানুষ জানেন বাড়িটি হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো এক সংগ্রামী মানুষের।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় ১৭ শতক জমির ওপর নির্মিত দোতলা ও একতলা দুটি ভবনে রয়েছে ৯টি কক্ষ, একটি প্রধান ফটক ও শান বাঁধানো পুকুর ঘাট। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছাদের বড় অংশ ভেঙে পড়েছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে, আগাছায় ভরে গেছে বাড়ির আঙিনা। কোনো কোনো স্থানে ধসে পড়েছে অনেক আগেই। বর্তমানে বাড়িটিতে বসবাস করছেন মৃত কিয়ামউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা। কিয়ামউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ইলা মিত্রের উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে আমরা বাড়িটি কিনেছি। বৈধ ভাবেই বাড়িটিতে বসবাস করছি। ক্রয় দলিল দেখাতেও প্রস্তুত আমরা।’ বসবাসকারীদের দাবি, ১৯৭০ থেকে তারা বংশপরম্পরায় বাড়িটিতে বসবাস করছেন।

জানা যায়, ১২৯৯ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাড়িটি নির্মাণ করেন ইলা মিত্রের দাদা রাজমহন সেন। পূর্বপুরুষেরা দেশত্যাগের পর বাড়িটি দখল হয়ে যায়। শুধু বাড়ি নয়, দখল হয়েছে ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্রনাথ সেনের রেখে যাওয়া শত শত বিঘা জমিও।

ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২২ শতক জমিসহ বাড়িটিকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু নয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জমি অধিগ্রহণসহ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দ্রুত দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।’

ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্রনাথ সেনের চাকরির সুবাদে তার জন্ম কলকাতায়। ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রাম তাদের পৈতৃক নিবাস। জন্ম কলকাতায় হলেও কিংবদন্তী নারী ইলা মিত্রের শৈশব-কৈশোরের অনেক সময় কেটেছে বাগুটিয়া, গোপালপুর, শেখরা, রঘুনন্দপুর, শাহাবাজপুরের প্রত্যন্ত পল্লীতে।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইলা মিত্র। কৃষক-আন্দোলন সংগ্রামের সময় পুলিশের হাতে আটক হয়ে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। ১৯৪৬ সালের দিকে দিনাজপুরের হাজী দানেশের প্রচেষ্টায় তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় স্বামী কমরেড রমেন্দ্র মিত্রের সঙ্গে ভারতে মালদহের নবাবগঞ্জ থানার রামচন্দ্র হাটের শ্বশুরের জমিদারবাড়ি ছেড়ে দিনাজপুর চলে আসেন তিনি।

তেভাগা আন্দোলনে কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে তিনি হয়ে ওঠেন সবার রানীমা। এই আন্দোলনের জন্য পাকিস্তান সরকার ইলা মিত্রসহ ২৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ইলা মিত্রকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে কলকাতা যাওয়ার অনুমতি দেয়। ১৯৬২-১৯৭৮ সালের মানিকতলা থেকে পরপর ৪ বার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৩ অক্টোবর ২০০২ সালে ৭৭ বছর বয়সে ইলা মিত্র মৃত্যুবরণ করেন।

বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্র কৃষকের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। তার স্মরণে পৈতৃক বাড়িটি সংরক্ষণ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও তার সংগ্রামী জীবন ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য জাদুঘর, পাঠাগার এবং গবেষণাগার নির্মাণের দাবি এলাকার সংস্কৃতিজনদের। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা