প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৩ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১০ পিএম
গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি: ভিডিও থেকে
শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনাকে “অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তার প্রশ্ন নির্ধারিত সময় আগে জামায়াতের যারা নেতাকর্মীরা রয়েছেন তারা যেভাবে চেয়ারটাকে দখল করে রেখেছিলেন চেয়ার ছাড়ছিলেন না কেন? আমরা দেখতে পেয়েছি শুনতে পেয়েছি আগে থেকেই লাঠিশোটা জোগাড় করে রেখেছিলেন, সেটা কি কারণে?”
ঢাকার গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এটি এড়ানো যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল? সেই দলের লোকজন কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করল?
সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকে মিলে বলার পরও সেই প্রার্থী কেন সে সংঘাতের পথ বেছে নিলেন? এসব বিষয় নিয়ে সামগ্রিকভাবে দ্রুত সময়মের দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটা সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।”
মাহদী আমিন বলেন, “ কিন্তু শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সব প্রার্থীদের অংশগ্রহণে কিন্তু গতকাল নির্বাচনি ইশতেহার একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রত্যেকটা দলের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন ছিল।
যেখানে তারা বসবেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ সেখানে সব আসন তথা চেয়ারগুলো আগে থেকে দখল করে রেখেছেন এবং বিএনপির যারা নেতাকর্মী রয়েছে, উনাদের জন্য যে নির্দিষ্ট আসনগুলো রয়েছে, সেই চেয়ারগুলো ছাড়ছিলেন না।
প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরও তারা কিন্তু সেই চেয়ারগুলো ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, চেয়ারে বসার মতন খুব তুচ্ছ একটা ঘটনা কেন্দ্র করে শেরপুরের যে সহিংসতা এবং সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
শেরপুরের সংঘাতের ঘটনায় ইতোমধ্যেই একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। সেই ভিডিও প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, “মাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি। যেখানে দেখা যাচ্ছে জামাতের যিনি প্রার্থী রয়েছেন তিনি বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির যারা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ রয়েছেন উনারা হাত জোর করে অনুরোধ করছিলেন, যে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য। যেন তিনি বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান। তারপরও সেই প্রার্থী ঠিক ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি বারবার বলছিলেন ‘জীবন যায় যাক’।”
বুধবারের এ সংঘর্ষে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি যেই দলেরই হোক না কেনো এটা মেনে নেওয়ার মতো নয় জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “ এই সংঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি যে দলেরই হোক না কেন তা কোনোভাবেই কাম্য না। কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিএনপিরও কিন্তু ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তার মাঝে অনেকেই খুব সংকটাপন্ন অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। যিনি নিহত হয়েছেন, যিনি আহত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকে তেমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন থাকবে। যেখানে কোনো মারামারি থাকবে না, কোনো কোন্দল থাকবে না, একটা উৎসমুখ পরিবেশ থাকবে।”
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে অন্তবর্তী সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার কথা বলেছেন মাহদী আমিন।
এর আগে, বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি–জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন।