শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৮ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৫ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বুধবার নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা পরিষদ মাঠ ও সংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলছিল। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও গুরুতর কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দুই থেকে আড়াইশো লোক ইশতেহার ঘোষণা মঞ্চে যাই। কিন্তু সেখানে চেয়ার দখল করে বসে ছিল জামায়াতের প্রায় হাজার পনেরো শ লোক। যারা বিভিন্ন যানবাহন অটোরিকশা, ট্রলি, মোটরসাইকেলযোগে শ্রীবরদী থেকে আসে। মঞ্চে আসতে আমার একটু দেরি হয়, এদিকে বিএনপির নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের উপর জামায়াতের লোকজন হামলা করে। তারা পাঞ্জাবির নিচে স্টিক, লাঠি নিয়ে আসে। এগুলো দিয়ে মেরে আমাদের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করেছে। আমরা এর বিচার চাই”।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের আমীর মওলানা হাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি প্রার্থীর মৌলিক অধিকার। কিন্তু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের এ সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, তারা কখনো অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় না। আমাদের প্রায় ৩৫ জন নিরীহ নেতাকর্মীকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মেরে গুরুতর আহত করেছে। কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি”।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, “সব প্রার্থীকে নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বসা নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো.মিজানুর রহমান ভূঁঞা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে”। রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীলদের শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান তিনি।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “সুন্দর একটা পরিবেশ বিরাজমান ছিল। হঠাৎ করে এমন একটা পরিবেশে সৃষ্টি হওয়ায় খুবই উদ্বেগের বিষয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।