শাকিল মাহমুদ, বরিশাল
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩২ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৫ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের প্রার্থীরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রতিটি আসনেই ভোটের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘদিন পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশায় ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে কৌতূহল ও সংশয় দুটোই। বিএনপি তাদের ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখদের নিয়ে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও প্রচারণায় সক্রিয় থাকায় কোথাও কোথাও ভোটের সমীকরণ হয়ে উঠছে জটিল। অতীত নির্বাচনের ফলাফল, দলীয় বিভাজন, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা— সব মিলিয়ে বরিশালের প্রতিটি আসনেই তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী ও বহুমুখী লড়াইয়ের দৃশ্যপট। উন্নয়ন, সুশাসন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটের দিন আদৌ সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে কি না— এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এসব বাস্তবতার মধ্যেই বরিশাল বিভাগের ছয়টি আসনের নির্বাচনী লড়াই ধীরে ধীরে পৌঁছাচ্ছে চূড়ান্ত পর্যায়ে।
বরিশালের ৬টি
আসনে নির্বাচনের মাঠে আছেন ৩৬ জন প্রার্থী। বিএনপির পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য, বাম দল ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এরই মধ্যে মাঠে
সক্রিয় ভূমিকায়। মাঠে নেমেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীও। প্রতীক পাওয়ার পর পরপরই মাঠ চষে
বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। এরই মধ্যে নির্বাচনে জয়ী হতে নানা কৌশলও শুরু করেছেন প্রার্থীরা।
ছয়টি আসনে ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার বেড়েছে ৭৭ হাজার
৯৫৬ জন এবং পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৭৭ হাজার ৩৫ জন। শুধু পুরুষ আর নারী ভোটারই নয়; হিজড়া
ভোটার বেড়েছে ১০ জন। সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে বরিশালের ছয়টি সংসদীয়
আসনে মোট ভোটার রয়েছে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন।
বরিশাল-১
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া
উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসন। বরিশালের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত আসনটি। আলোচিত এই
আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন
স্বপন। আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাসেল
সরদার মেহেদী ও মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। আসনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮
সাল পর্যন্ত একবার জাতীয় পার্টি বিজয়ী হলেও বাকি ৭ বারের মধ্যে চারবার আওয়ামী লীগ ও
তিনবার বিএনপি নির্বাচিত হয়েছে। গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৩
হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার
৯ জন।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
রয়েছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য
এম জহির উদ্দিন স্বপন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ
মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান, ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস
সোবহান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মো. রাসেল সরদার
মেহেদী এবং জেপি মনোনীত বাইসাইকেল মার্কার প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমি নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। স্বতঃস্ফূর্ত একটা জোয়ার উঠেছে।
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ সংকটের সমাধান খুঁজে নিয়েছে। এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ
মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন দূর করা এসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেব।
তরুণ ভোটারদের প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন রকম ভকেশনাল ইনস্টিটিউট
করবÑ যাতে প্রবাসী কর্মসংস্থানের সুযোগটাকে কাজে লাগানো যায়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী
আব্দুস সোবহান বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকায় রূপান্তর করব এই আসন। ভোটের পরিবেশ
শান্ত আছে। এলাকায় মানুষদের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তরুনদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের
ব্যবস্থা করব। যাতে যুবসমাজ প্রশিক্ষণ পেয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান
সৃষ্টি করতে পারে।
বরিশাল-২
বানারীপাড়া ও উজিরপুর
উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসন। আলোচিত এই আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন
আহমেদ। তার সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মন্নান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
মোহাম্মদ নেছার উদ্দিনের সঙ্গে। আসনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৯টি জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে ৩ বার জাতীয় পার্টি, ৩ বার বিএনপি বিজয়ী হলেও বাকি ৩ বারের মধ্যে দুইবার
আওয়ামী লীগ ও একবার ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচিত হয়েছে। তবে নতুন করে সংসদীয় এলাকা
নির্ধারণের পূর্বে দেখা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলা ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি)
মিলে একটি সংসদীয় আসন ছিল। তখন বানারীপাড়া উপজেলার সন্তান প্রয়াত সৈয়দ শহীদুল হক জামাল
তিনবার এ আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত
তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের বাইরে বরিশাল-২ আসনটি বিএনপির দখলেই ছিল।
উজিরপুর-বানারীপাড়া
আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার
৫৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জামায়াতে
ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত
হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত
মোটরগাড়ি প্রতীকে মো. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকে
আব্দুল হক, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকে এমএ জলিল, গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক
প্রতীকে রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত আম প্রতীকে সাহেব
আলী।
বিএনপির মনোনীত
প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি জনগণের জন্য দেশের জন্য ৩১ দফা ঘোষনা
করেছে, এই ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করব।
জামায়াতে ইসলামীর
আব্দুল মন্নান বলেন, জনগনের মধ্যে আমাদের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা তারা যেভাবে আমাদের উৎসাহিত
করছে তাতে আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজয় হবে।
বরিশাল-৩
বাবুগঞ্জ ও মুলাদী
উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসন। আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবারে দলীয় প্রার্থী ঘোষাণা না করলেও দ্বিতীয়বার
তাকেই মনোনয়ন দেয় দলটি। এদিকে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে এবি পার্টির সাধারণ
সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জামায়াত জোটের সমর্থন পেয়েছে। আর ইসলামী আন্দোলনের
প্রার্থী হয়েছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক
সম্পাদক এবং বরিশাল জেলার সভাপতির পদে রয়েছেন। এছাড়া ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান রয়েছে
জাতীয় পার্টির। আসনটির সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী।
যদিও তিনি জেলে আছেন তবে তার পক্ষ হয়ে মাঠে কাজ করছেন হাবিবা কিবরিয়া। পাশে আছেন জাতীয়
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস। বাবুগঞ্জ-মুলাদীর এই আসনটিতে
মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুয় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩
জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
অ্যাডভোকেট জয়নুল
আবেদীন বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের সঙ্গে বিএনপির সর্বস্তরের
নেতাকর্মীরা কাজ করছে।
হাবিবা কিবরিয়ার
বলেন, এটা শুধু নির্বাচনী লড়াই নয়, একজন বাবার ন্যায় পাওয়ার জন্য মেয়ের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে
মুলাদী-বাবুগঞ্জের সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ভোটে তার
বাবা টিপুকে এমপি নির্বাচিত করে কারাগার থেকে মুক্ত করবেন।
এবি পার্টির সাধারণ
সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে ২০০১-এর পর ভালো নির্বাচন হয়নি।
২০০৮-এ ইনজিনিয়ারড ইলেকশন, ২০১৪ একতরফা, ১৮ তে রাতে আর ২৪ এ ডামি। সব মিলিয়ে ভোট হবে
কি না এখনও এই প্রশ্নটা অনেক ভোটাররা করেন। এসবের মধ্য দিয়ে ভোটের প্রতি যে অনাগ্রহটা
তৈরি হয়েছে সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদেরকে কেন্দ্রমুখী করা।
বরিশাল-৩ আসনে এবার
ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট
জয়নুল আবেদীন, এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় পার্টির
মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু, গন অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ইয়ামিন এইচএম
ফারদিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদ মনোনীত
প্রার্থী মো. আজমুল হাসান জিহাদ।
বরিশাল-৪
হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রাজীব মনোনয়ন পাওয়ায় বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হওয়ায় তাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব
চরমোনাই
পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।
ভোটের মাঠে এই ৩ জনের সঙ্গেই লড়াই হবে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী
রাজীব আহসান বলেন, আমরা গনতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় লড়াই করেছি। অন্যায়ের সঙ্গে আপস
করিনি। কখনও কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিইনি। জনগণের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে নিজের স্বার্থ
হাসিলের জন্য চিন্তা করিনি। এই ধারাবাহিকতাটা বজায় রাখতে চাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। তবে
ভবিষ্যতে কী হয় জানি না। জয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ
এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার
৯০৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
আসনটিতে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজীব আহসান,ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের, মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী
আবদুল জলিল, বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত প্রার্থী আবদুস ছালাম (খোকন), জামায়াত মনোনীত প্রার্থী
মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার।
বরিশাল-৫
বরিশাল সিটি করপোরেশন
ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসন। এ আসনে নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পঞ্চম
বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০
বছর বরিশাল বিএনপির রাজত্বে মজিবর রহমান সরোয়ারের। ৪ বার সংসদ সদস্য হয়ে বরিশাল বিভাগের
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার
বলেন, ভোট যেন স্বচ্ছ হয় আমরা তাই চাই। ভোটকে নস্যাৎ করা যাবে না। আমরা জানি অনেকেই
চাচ্ছে ষড়যন্ত্র করে নাশকতা করে যাতে ভোটটা নষ্ট হয়ে যায়। এই ভোটটা বাংলাদেশের জন্য
অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
আসনটিতে ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীমের
সম্মানে ও তাকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে জামায়াতে ইসলামীর মুয়াযযম
হোসাইন হেলাল। এ ছাড়া মাঠে শক্ত অবস্থানে আছে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী।
ইসলামী আন্দোলন
বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম বলেন, আমারা বিশ্বাস করি যদি ইসলামের
হুকুমত হয় মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সর্বস্তরের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
একটা সাম্য সৃষ্টি হবে দেশের মধ্যে। এর মাধ্যমে একটা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ
গড়া সম্ভব হবে।
বাসদের প্রার্থী
মনীষা চক্রবর্তী বলেন, সংসদ কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। আমরা এই ক্লাবটাকে ভাঙতে
চাই। জনগণের ক্ষমতার কেন্দ্র বানাতে চাই সংসদকে। যারা দুনীতি ও লুটপাটের অবসান চান
তারাই আমাদের ভোট দেবে।
বরিশাল সদর ও সিটি
কপোরেশনের এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার
২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার
রয়েছে ৭ জন। বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬ জন। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আখতার রহমান, এনপিপি
মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হান্নান সিকদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মো.
সাইদুর রহমান।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)
বরিশাল-৬ আসনে তৃতীয়
বারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। এ আসনে
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াত
ইসলামী বাংলাদেশ এর মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থী
আবুল হোসেন খান বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তাই এবারের নির্বাচনে
জনগণের আগ্রহ ভিন্ন ধরনের। সরকারের কাছে আবেদন মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তার ভোট দিতে
পারেন। আমি আশাবাদী আমাদের বিজয় হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ
মো. ফয়জুল করীম বলেন, ইসলাম, দেশ ও মানবতার জন্য মানুষ হাতপাখাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন। বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সালাউদ্দিন মিয়া, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস।