অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭ এএম
রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে শাবকসহ হাতির দল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে একটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে। গত শুক্রবার দেশের সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চলে হাতি শাবকের জন্মের খবর নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন। নতুন বছরে এই হাতি শাবকের জন্মে আনন্দিত বন বিভাগের কর্মচারীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় বুনো হাতির উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। যার প্রেক্ষিত্রে হাতি-মানুষের বেশ কয়েকটি দ্বন্দ্বের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনে খাবার সংকটে বন্যহাতির পাল নেমে আসছে লোকালয়ে। তবে বন বিভাগ বলছে, স্থানীয়দের এই অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। বিশেষ করে বর্তমানে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থল বেড়েছে এবং হাতিদের পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে বলেই সুস্থভাবে জন্ম হয়েছে একটি হাতি শাবকের। তা ছাড়া বন বিভাগ চেষ্টা করছে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানকে আরও সমৃদ্ধ করতে। যাতে করে বুনো হাতির পাশাপাশি অনান্য বন্যপ্রাণী সুস্থ ও নিরাপদ থাকে।
হাতি শাবকের জন্ম প্রসঙ্গে রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, ‘হাতি শাবকের জন্ম অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। বন বিভাগ বুনোহাতির আবাসস্থল রক্ষায় ও খাদ্য সংকট দূর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম বৃহৎ বনাঞ্চল। এখানে প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি বুনো হাতি রয়েছে। বুনো হাতি ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও বনোজ সম্পদ।’
তিনি বলেন, ‘এর আগেও উদ্যানে দুই থেকে তিনটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে। তবে নতুন বছরে এই প্রথম একটি শাবকের জন্ম। আমরা শাবকটির নিরাপত্তার জন্য বুনো হাতির পালটিকে পর্যবেক্ষণ করছি। এছাড়া কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির খাদ্য বাড়ানোর জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। ফলে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থলের পরিধি আরও বাড়বে।’
এই বন কর্মকর্তা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হাতি মানুষের যে দ্বন্দ্ব, সেজন্য মানুষের দায়ও কম নয়। হাতি চলাচলের করিডোরে পাকা রাস্তা হয়েছে, বসতি তৈরি করেছে, বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হয়েছে। এতে করে হাতির চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উত্তেজিত হয়ে বন্যহাতি মানুষ ও জানমালের ওপর আক্রমণ করে বসছে। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
হাতি বনের প্রাণী। তাদের সুরক্ষায় সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বন বিভাগকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সহযোগিতা করতে হবে। তাতে করেই সফলতা পাওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫ হাজার ৪৬৪ হেক্টর আয়তনের এই উদ্যানে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চল, সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি ঝিরি, ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়ারণ্য রয়েছে। এটি বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বেশ পরিচিত। এই উদ্যান বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এবং দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য এলাকা।