নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২২ ১৮:৫১ পিএম
নাটোরে কলেজশিক্ষক খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামুনকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা দায়রা জজ আদালতে তোলা হয়।
এ সময় মামুনের জামিন আবেদন করেন আইনজীবী গোলাম সারোয়ার স্বপন। তবে এই আবেদন নাকচ করে মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দীন।
কোর্ট জিআরও খাদেমুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কড়া নিরাপত্তায় মামুনকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। তবে তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন। মামুন জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে স্বামী স্ত্রী ঝগড়া হলে তিনি খাইরুনকে লাথি মেরে বাইরে চলে যান।
এরপর শিক্ষক খাইরুন নাহার তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও মামুন ফোন রিসিভ করেননি। এতে ক্ষোভে খাইরুন নাহার আত্মহত্যা করেছে বলে জানান মামুন। সেদিন রাত ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে তার ঘোরাঘুরির তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
রোববার সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধারের পর মামুনকে আটক করা হয়।
নিহত খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তার দ্বিতীয় স্বামী ২২ বছর বয়সী মামুনের বাড়ি উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামে।
আট মাস আগে তারা বিয়ে করলেও সম্প্রতি এই বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়।
নাটোর মডেল থানা পুলিশ জানায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর এক ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকতেন খায়রুন। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ২০২১ সালের ২৪ জুন মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয় খাইরুন নাহারের। পরিচয়ের ছয় মাস পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে গোপনে তাকে বিয়ে করেন খায়রুন।