দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নোয়াখালীর তিন বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বুধবার রাতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে নিম্নবর্ণিত নেতৃবৃন্দকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হল।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—নোয়াখালী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব।
জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের দিনই তারা বহিষ্কারের মুখে পড়েন। নোয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। এতে কাজী মফিজুর রহমান পেয়েছেন ‘কাপ-পিরিচ’, প্রকৌশলী ফজলুল আজীম পেয়েছেন ‘হরিণ’ এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব পেয়েছেন ‘ফুটবল’ প্রতীক।
তবে বহিষ্কারের ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক ও ভোটাররা বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন এসব প্রার্থীরা।
তারা জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে বহিষ্কার হবে—এটা জেনেই তারা প্রার্থী হয়েছেন। তাই এ সিদ্ধান্তে তারা আতঙ্কিত নন।
এদিকে বহিষ্কার হবেন জেনেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কাজী মফিজুর রহমান ও তানবীর উদ্দীন রাজীব।
তারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল, তবুও জনগণের ওপর আস্থা রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। যাদের পক্ষে ভোটার আছে, তারা জবাব দেবেন ব্যালটে। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম বলেন, “২০০৮ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারের ফলে বিএনপির সংসদে আসন সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩০-এ। একইভাবে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের কারণে ছাত্রদলও চরম ভরাডুবির মুখে পড়ে। ১২ ফেব্রুয়ারি এমন পরিস্থিতি আবার সৃষ্টি হবে না—এর নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? আমি নিজেও ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জনগণের রায়ে সংসদে গিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, এবারও হরিণ মার্কা নিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনেই বিজয়ী হবো।”