নোয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:১৪ পিএম
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৪৬ পিএম
হাতিয়ার পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়। ছবি : প্রবা
সাপ্তাহিক ও বড়দিনসহ তিনদিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে সাগরকন্যা হাতিয়ায় ভিড় জমিয়েছেন হাজারো পর্যটক। ঘোড়া, টিউব, ছবি তোলাসহ নোনাজলে বিনোদন প্রেমীতে সরগরম হাতিয়া।
হাতিয়ার বিনোদন পয়েন্টগুলোতে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দের পদচারণায় মুখর সৈকত। আগত পর্যটকরা সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মেতেছেন। অনেকে আবার উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
হাতিয়া উপজেলার নিমতলী সৈকত, কমলার দিঘী, লালচর ও নিঝুমদ্বীপে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। নিঝুমদ্বীপে পরিযায়ী পাখি, সমুদ্র আর বনের চিত্রা হরিণ দেখতে অসংখ্য পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে।
ফেনী জেলার আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের জেলা শাখা থেকে ২০ জনের একটি গ্রুপ হাতিয়া উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো দেখতে এসেছেন। তাদের একজন মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিনদিনের ছুটি পেয়েছি। সবার মিলে হাতিয়া ঘুরতে এসেছি। সবাই মিলে মজা করবো এই কয়েদিন।’
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. কাউসার আহমেদ বলেন, ‘শীতের মধ্যেই হাতিয়ায় ঘুরতে মজা, সবই ঠিক আছে তবে পর্যটনের ভিতরের কানেক্টিং সড়কগুলো পাকা করা জরুরি।’
সিলেট থেকে নিঝুমদ্বীপে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, একটা জায়গা এত সুন্দর হতে পারে কেউ না দেখে বলতে পারবেনা। বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ বন ও সমুদ্র সৈকত একসাথে যা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। এখানে হরিণ ও দেখতে পেয়েছি। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা জায়গা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘুরতে আসা জান্নাসা সাদিয়া অতুল বলেন, ‘আমরা আট জনের একটা টিম নিঝুমদ্বীপে এসেছি। চৌধুরী খাল, ম্যানগ্রোভ বন ও সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছি। আমার বাড়ি চট্রগ্রামে। আমি মনে করি নিঝুমদ্বীপের সৌন্দর্য সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজারকে হার মানাবে।’
নিঝুমদ্বীপের বাসিন্দা আয়াত উল্লাহ সুজন বলেন, ‘নিঝুমদ্বীপে এত পর্যটক একসঙ্গে কখনও দেখি নাই। মানুষ ঠাঁই দেওয়ার জায়গা নেই। পর্যটকদের মাধ্যমে নিঝুমদ্বীপ আরও পরিচিতি লাভ করবে।’
ইশিতা ইকো রিসোর্টের ম্যানাজার মো. শামছুদ্দিন বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ অনেক পর্যটক এসেছে। আমাদের সব রুম বুকিং। কিছু মানুষ অনুরোধ করছে বুকিং এর জন্য। আমরা অন্যান্য রিসোর্ট ও বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করছি।’
ঘাটের ইজারাদার মো. ফাহিম হোসেন বলেন, ঘাটে প্রচুর মানুষ আছে। সি ট্রাকে অনেক যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। যাদের দ্রুত দরকার তারা স্পীড বোটে যাতায়াত করছে। ঘাটের শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। আশপাশের দোকানে বিক্রি বেড়ে গেছে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. দিনাজ উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে নিঝুমদ্বীপে। এখানে পর্যটকরা নিজেদের বাড়ি-ঘরের মত করে বেড়াচ্ছে। এভাবে যদি মানুষ নিঝুমদ্বীপে নিয়মিত আসে তাহলে আমরা আগামীদিনে পর্যটন খাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারব।’
হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, ‘এভাবে বারোমাস পর্যটক থাকলে আমরা খুবই আনন্দিত। পর্যটকের চলাচলের জন্য উপজেলার কিছু কিছু সড়ক ভালো রয়েছে। বাকি সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। সবার প্রচেষ্টায় আমাদের সাগরকন্যা হাতিয়া পর্যটনের রাজধানী হবে।’
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস বলেন, ‘পুরো হাতিয়া উপজেলায় এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কমলার দিঘী, নিমতলী সৈকত, নিঝুমদ্বীপেও অনেক পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। আমরা পর্যটনদের আকৃষ্ট করার জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র হাতিয়ায় মানুষ বেড়াতে আসবে।’