× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্যের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করলে আপনি শেখ হাসিনা: আইন উপদেষ্টা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৪ পিএম

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৬ পিএম

বগুড়া জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।  ছবি: বাসস

বগুড়া জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি: বাসস

ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত গণতন্ত্র—এমন মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে কেউ অন্যের ভোট দেওয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে তাকে ফ্যাসিবাদী প্রতিনিধি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। অন্যের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন।  

বগুড়া জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষকে প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একবার রাতের আঁধারে ভোট, একবার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া নির্বাচন এবং আরেকবার ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছিল। 

টানা ১৫ বছর দেশের জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করে বলে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসামান্য ভূমিকার কারণেই দেশ আজ একটি নতুন সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষ আবার ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেয়েছে, যা কোনোভাবেই হারানো যাবে না।

“আপনার সরকার কে হবে, তা আপনি ঠিক করবেন। আগে এটি ঠিক করতেন শেখ হাসিনা, আর এখন ঠিক করবে দেশের মানুষ” বলেন আইন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। যে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে-এটাই গণতন্ত্র। তবে কেউ অন্যের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করলে সে নিজেই ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধিতে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

উপদেষ্টা বলেন, “ভোট দেওয়া মানে হচ্ছে আপনার সরকার আপনি নির্ধারণ করবেন। আপনার জনপ্রতিনিধি কে হবে, কে সংসদে গিয়ে আপনার কথা বলবে—সেটা আপনি ঠিক করবেন। এটা আগে ঠিক করত শেখ হাসিনা। একজন ব্যক্তি। এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এটা ঠিক করবে”।

“কাজেই আমরা অসাধারণ একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করার চেষ্টা করব। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেই প্রার্থীকে আমাদের মনে চাই, যাকে ইচ্ছা আমরা ভোট দিব”।

“কিন্তু আমরা ভোট দেওয়ার সময় খেয়াল রাখব অন্যকে আমরা ডিস্টার্ব করব না। অন্যের ভোট দেওয়ার অধিকারকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করব না। অন্যকে যদি ভোট দিতে বাধা দেন, বা ক্ষুণ্ন করেন তাহলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে গেলেন।”

সভায় অংশগ্রহণ করা ব্যক্তিদের উদ্দেশে উপদেষ্টা প্রশ্ন রাখেন, “আমরা কি কেউ শেখ হাসিনা হতে চাই?” তখন উপস্থিত জনতা উচ্চস্বরে বলেন, “না”।

“কাজেই আমরা সবার ভোটাধিকার উন্মুক্ত রাখব” বলেন আসিফ নজরুল। 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে দেশে এমন একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল, যেখানে আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে মানুষকে নির্যাতন করা হতো। দিনের পর দিন বিচার ছাড়াই মানুষকে কারাগারে রাখা হয়েছে, এমনকি কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। 

তিনি বলেন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংক লুট এবং বিদেশি শক্তির কাছে নতজানু থাকার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে দেশের আইন, নীতি ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা, মানবাধিকার কমিশন গঠন, ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধি সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা এই সরকারের এখতিয়ারের বাইরে।

কোথায় কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন—তা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, জনগণের মতামত জানার জন্যই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। 

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ -দুটি বিকল্প থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা যদি চান বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হোক, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যদি আগের মতো একচ্ছত্র ক্ষমতা ও দুর্নীতির শাসন চান, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন”।

“এটি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে গণভোট নয়; এটি দেশের স্বার্থে” বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি সংস্কার কার্যকর করতে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন।

শেষে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটে ভোট দিতে হবে দেশের পক্ষে।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা