নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৯ এএম
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান রনিকে (৩৫) প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে।
উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলাকালে মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। ঘটনার পর তাকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে।
নিহতের স্বজনরা বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকে কষ্ট করে মানুষ হয়েছি। আমাদের আত্মীয় স্বজনরা জানে আমাদের কষ্টের কথা। অথচ মিজানকে এভাবে মেরেছে তা আমরা মানতে পারি না। তার পুরো মুখ থেতলে দিয়েছে। দেশে আইন আছে। যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
হারুনুর রশীদ হারুন নামের স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা অফিসে বসে নির্বাচনী আলোচনা করছিলাম। এ সময় মিজান এলে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সে চলে যায়। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘পিটিয়ে হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’