কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৬ পিএম
বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড় হচ্ছেন সাইফুল ইসলাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগরপথ ‘বাংলা চ্যানেল’। সাঁতরে পাড়ি দিয়ে বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতার ২০তম আসরে প্রথম হয়েছেন ডাকসুর সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রাসেল।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সমুদ্র সৈকত থেকে শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ৩৫ জন সাঁতারু। সাইফুল ইসলাম রাসেল বিকেল ১টা ১৫ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি সময় নেন প্রায় ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।
৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সময় নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মো. ফয়সাল আহমেদ ও মো. তৈফিকুজ্জামান। তৃতীয় হন হাফিজুর রহমান, যিনি সময় নেন ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট।
প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ২০ জন সাঁতারু সফলভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে পৌঁছাতে সক্ষম হন। বাকিরা মাঝপথে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টার মধ্যে ধাপে ধাপে সাঁতারুরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পৌঁছান।
এবারের প্রতিযোগিতায় দুইজন নারী সাঁতারুও অংশ নেন। তারা হলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার এবং বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া প্রথম নারী সাঁতারু এমএসটি সোহাগী আক্তার। দুজনই সফলভাবে চ্যানেলটি পাড়ি দেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দীন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ এই আন্তর্জাতিক মানের সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
প্রথম স্থান অর্জনের পর সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, “এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। ২০২১ সালে একসঙ্গে ডাবল ক্রস করেছি। আজ সাগর অনেকটাই প্রতিকূল ছিল, তবুও লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে জয়ের। আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। সামনে আরও বড় অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিতে চাই।”
এটি সাইফুল ইসলাম রাসেলের সপ্তমবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং অমর একুশে হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং ও ওয়াটার পোলো দলের অধিনায়ক এবং ঢাকসুর সাবেক সদস্য। তার বাড়ি বরগুনা সদরে।
‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া সাঁতারু এবং ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’-এর প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার বলেন, “আন্তর্জাতিক রীতি মেনে প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিটি সাঁতারুর সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য বোট ও উদ্ধারকর্মী ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করতে পেরেছি।”
অ্যাডভেঞ্চার গুরু খ্যাত প্রয়াত কাজী হামিদুল হক প্রথম বঙ্গোপসাগরের এই স্রোতোধারাকে সমুদ্র সাঁতারের উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তার পরিকল্পনায় ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি লিপটন সরকার, ফজলুল কবির সিনা ও সালমান সাঈদ প্রথমবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী ভ্যান গুল মিলকো এই চ্যানেল অতিক্রম করেন। এরপর থেকেই বাংলা চ্যানেল ‘ইন্টারন্যাশনাল ওপেন ওয়াটার লং ডিসটেন্স সুইমিং’ তালিকাভুক্ত হয়।