ফারুক আহমাদ আরিফ, সিরাজগঞ্জ থেকে ফিরে
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৩ এএম
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৪ এএম
সিরাজগঞ্জের চলনবিলে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত। প্রবা ফটো
যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই সবুজের বুকে চোখজুড়ানো হলুদ ফুলে ছাওয়া সরিষা। তার ওপর রোদ পড়ে সৃষ্টি করেছে বিস্ময়কর অপার এক সৌন্দর্য। আবার রোদ যখন থাকছে না, তখন ছায়াচ্ছন্ন আকাশের নিচে সেই ফুল ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্জন মায়া। শীতের হিমছড়ানো প্রকৃতিতে চোখ আটকে যায় সিরাজগঞ্জের চলনবিলেÑ সরিষার হলুদ ফুলের এমন আদিগন্ত বিস্তৃত রাজ্যে। সরিষার সূত্রে সম্প্রতি মৌচাষও লাভজনক হয়ে উঠেছে সেখানে। চলতি বছর সিরাজগঞ্জে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৪ হাজার কেজি।
বিস্তৃত এই হলুদ সরিষার রাজ্য মেলে ধরেছে পর্যটনেরও বিশাল এক সম্ভাবনা। কুয়াশাভেজা সমতল প্রান্তরে যে সৌন্দর্য দেখা দিয়েছে, তা হাতছানি দিয়ে ডাকছে পথিকদের। আবার কৃষি অর্থনীতিকে বিবেচনায় নিয়ে বলতে হয়, দেশে সয়াবিনের একক আধিপত্য কমাতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে সরিষা চাষ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলেন্স ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের সহযোগিতায় সিরাজগঞ্জে বারি-২০ সরিষার আবাদ এ ক্ষেত্রে নতুন এক পথ দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরিষা চাষে গুরুত্বারোপ করলে তেল আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
যা বলছেন চাষিরা
সরেজমিনে দেখা গেল, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর গ্রামের আব্দুল আওয়ালসহ ৩৫ জন কৃষকের ১০০ একর জমিতে বারি-২০ সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। আব্দুল আওয়াল বললেন, ‘এ বছর ভালো ফলন হলে আগামীতে এটি আবার লাগাব। আমরা এর আগে বারি-১৭ জাতের সরিষা আবাদ করতাম। এ বছর নতুন জাত এসেছে। শুনলাম এটির ফলন আরও ভালো হবে। তেলের পরিমাণও বেশি পাওয়া যাবে। তাই সাড়ে তিন বিঘা জমিতে এই নতুন জাতের আবাদ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুমের সময় সরিষা ২৫০০-২৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করা যায়। মৌসুম-পরবর্তী সময়ে এটা ৩০০০-৩৫০০ টাকা মণ দরেও বিক্রি হয়।’
তেলের চাহিদা বনাম সরিষা উৎপাদন
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৩–২৪ লাখ টন। সে হিসাবে ভোজ্য তেলের মাসিক চাহিদা দাঁড়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টনের মতো। সেখানে সয়াবিন তেলের গড় চাহিদা ৭৯ থেকে ৮৭ হাজার টন।
অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ অর্থবছরে দেশে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে ১৭ লাখ ৪৪ হাজার টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ১০ লাখ ৪৯ হাজার হেক্টর জমিতে ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টন সরিষা উৎপাদন হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, ‘সরিষা চাষের মধ্য দিয়ে কৃষিক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে এবং এটিকে বলা চলে এ অঞ্চলের একক ফসল। আমরা চাই এই জেলা সরিষা চাষে আরও এগিয়ে যাক। এই প্রত্যাশার সূত্রেই এখানে পরীক্ষামূলকভাবে বারি উদ্ভাবিত নতুন জাত বারি সরিষা-২০ এক জায়গায় ১০০ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। সাধারণভাবে বারি সরিষা-১৪, ১৫ ও ১৭ চাষিদের মধ্যে বেশি প্রচলিত। কারণ সেগুলোতে প্রতি বিঘায় গড়ে চার থেকে পাঁচ মণ ও সর্বোচ্চ ৬ মণ ফলন হয়। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করছি, বারি সরিষা-২০-এর ফলন বেশি হবে। প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ হবে।’ তিনি বলেন, নতুন এই জাতটির জীবনকাল বারি-১৪ ও ১৭-এর কাছাকাছি হলেও এর আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন, এ জাতটি খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল। যার ফলে চরাঞ্চলে এটি খুব সহজেই চাষ করা যায়। আমরা চাইছি, বারি-১৪, ১৫ ও ১৭ সঙ্গে বারি-২০ জাতটিও ছড়িয়ে দিতে।’
মনজুরে মাওলা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, রোপা আমন কাটার পর যে সময়টায় জমি পতিত থাকে সেই সময়ে সরিষার আবাদ করা। এর চাষকে আমরা আরও বেগবান করতে চাই। পাশাপাশি এর পরে একই জমিতে নির্বিঘ্নে বোরো ফসলের আবাদ নিশ্চিত করতে চাই। এক জমিতে আমরা যদি তিনটি ফসল আবাদ করতে পারি, তাহলে কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে।’

উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সীমা বলেন, ‘একক উপজেলা হিসেবে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি সরিষা উৎপাদন হয়।’ তিনি জানান, ‘সরিষার নতুন নতুন জাত সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ট্র্যাডিশনাল ও লোকাল জাতের পাশাপাশি বারি ১৪, ১৫, ১৭ জাতের চাষ বাড়ছে। নতুন বারি সরিষা-২০ জাতের চাষাবাদও বাড়ছে। পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলায় এর তিনটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরিষার গতানুগতিক জাতের জায়গায় আমরা উন্নত জাতের সরিষা প্রতিস্থাপন করেছি। তা ছাড়া কৃষি প্রণোদনার আওতায় প্রায় ১৬ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ বলেন, ‘গত ২০২০ অর্থবছরে কৃষকদের মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার টন বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি বীজের দাম ছিল ৭৫-৭৮ টাকা। চলতি ২০২৫ অর্থবছরে ৮৩-৮৫ টাকা কেজি দরে ৭৩ হাজার কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বিঘা জমির জন্য ১০ কেজি ডিওপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।’
বোরো চাষ করতে গিয়ে সার কম লাগবে
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের পাবনা কার্যালয়ের সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পার্টনার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মৌসুমিই হোক আর যেমনই হোক, পতিত জমিকে আবাদের আওতায় নিয়ে আসা। যাতে কৃষকের চিরাচরিত ফসল চাষের ধারায় বিঘ্ন না ঘটিয়ে দুটি ফসলের মাঝখানের পতিত সময়কে কাজে লাগানো। বর্তমানে আমরা বারি সরিষা-২০-এর উচ্চফলনশীল জাত বপন করেছি। এ জাত ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে কাটা যায়। অর্থাৎ ১০ নভেম্বরের মধ্যে বোনা হয় এবং জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তা কেটে ফেলা হয়। এর ফলে কৃষকরা যথাসময়েই বোরো ধান রোপণ করতে পারবেন। এ সময়ে চাষাবাদের কারণে কৃষক বাড়তি আয়ের ফলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে লাভবান হবেন। বিঘাপ্রতি এসবের ফলন ৬-৭ মণ হলেও এ অঞ্চলে তা ৫-৬ মণ হবে। তবে এই সরিষা চাষের ফলে মাটির স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন ঘটবে। বোরো চাষ করতে গিয়ে কৃষকের রাসায়নিক সার অর্ধেক কম লাগবে।
প্রধান লক্ষ্য ভোজ্য তেল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়
পার্টনার (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলেন্স ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেশে বছরে ২৪-২৫ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। তার ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। আমাদের তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে ভোজ্য তেলের উৎপাদন ৪০ শতাংশ হ্রাসের একটি প্রকল্প কাজ করছে। পাশাপাশি পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমেও আমরা কিছু সরিষার প্রদর্শনী দিচ্ছি। এতে করে সয়াবিন আমদানি কমবে। গত অর্থবছরে সরিষাসহ অন্যান্য তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে তেল আমদানি ৬ হাজার কোটি টাকা বেঁচে গেছে। তা ছাড়া সয়াবিনে স্বাস্থ্যগত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সেদিক থেকে সরিষা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাই সরিষা আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের দেশে ভোজ্য তেলের ৯০ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। প্রথমত, আমরা উন্নত জাতের সরিষা আবাদের মাধ্যমে সেই আমদানি-নির্ভরতা কমাতে চাই। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটবে। দ্বিতীয়ত, ভালো ও উন্নত উদ্ভাবিত সরিষার জাতগুলোকে মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করতে চাই। এসবের মধ্যে বারি সরিষা-১৮ থেকে হার্ট ফ্রেন্ডলি তেল হয়। আমরা চাই, জনসাধারণ এসব জাতের চাষে অভ্যস্ত হোক। যাতে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে তেলের আমদানি রোধ হয়। আমরা সব সময় আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে থাকি এবং রপ্তানিকে প্রাধান্য দেই।’
সরিষা ও মধু মিলিয়ে ১২৫০ কোটি টাকার বাজার
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি উপ-পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা মৌচাষ সম্পর্কে বলেন, ‘সরিষার সঙ্গে ট্রান্সক্রপ ফসল হিসেবে মৌচাষেও সিরাজগঞ্জ এগিয়ে আছে। চলতি বছরে আমাদের ৪ লাখ ৪ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ২৫৮ জন মৌচাষি এ এলাকায় মৌবক্স স্থাপন করেছিলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২০ জন এসেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ কেজি মধু উৎপাদিত হয়েছে। সরিষা ও মধু মিলিয়ে সিরাজগঞ্জে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আধুনিক জাত সম্প্রসারণ এবং মৌচাষিদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে এই সম্ভাবনা বাড়বে। মৌমাছি বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক ভাইদের অনুরোধ করছি, সরিষাক্ষেতে যদি বালাইনাশক প্রয়োগ করতেই হয়, তাহলে যেন পড়ন্ত বিকালে স্প্রে করা হয়। এতে মৌমাছি বা মধু ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। বারি সরিষা-২০-এর মতো আধুনিক জাতের মাধ্যমে মৌচাষ আরও ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৪ লাখ ৪ হাজার কেজি মধু উৎপাদিত হলে বর্তমান দর অনুযায়ী এর বাজারমূল্য ১৩-১৫ কোটি টাকা। এখানে সাধারণ চাষভিত্তিক মধুচাষ করা হয়। এ বছর সরকার মৌচাষিদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। আমাদের মৌচাষিরা সরকারের বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন। আমরা সরকারের কাছে তাদের আবেদনের কথা জানিয়েছি।’
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সীমা বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের মধুকে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন প্রোডাক্ট বা জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর মধু উৎপাদন হয়েছিল ১৮৩ মেট্রিক টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯৫ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তা অর্জন করা সম্ভব হবে। উল্লাপাড়ায় ১২৭ জন মৌচাষি রয়েছে। সরিষার মৌসুমে চলনবিল এলাকায় ও অন্যান্য মৌসুমে সারা দেশ ঘুরে বেড়ান। মাঠপর্যায় থেকে অফিস পর্যন্ত তাদের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘মৌমাছির পরাগায়নে সরিষার ফলন ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।’
অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের সম্ভাবনা
সিরাজগঞ্জে সরিষা ও মৌচাষের সঙ্গে কৃষিভিত্তিক পর্যটন বা অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান খবির উদ্দীন বলেন, ‘করোনা মহামারির পর থেকে মানুষের প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। চলনবিলকে ঘিরে নেচারবেইজড (প্রকৃতিনির্ভর) পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। এ অঞ্চলে যেমন পানি আছে তেমনি শুষ্ক মৌসুমে রয়েছে অন্য আরেক উপাদান। এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। সেজন্য যেসব অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার, তা বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একেকটি অঞ্চলের একেক ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে। সেই বৈশিষ্টগুলো বজায় রাখতে হবে। এর ফলে মানুষের রুটি-রুজি বাড়াতে ভ্রমণ বা পর্যটন যেমন নতুন দুয়ার খুলবে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করবে।’
ট্যুরিজমের মাস্টারপ্ল্যানে চলনবিল নিয়ে বিশেষ চিন্তা
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) নুজহাত ইয়াসমিন বলেন, ‘পর্যটন খাতে চলনবিল একটি সম্ভাবনাময় জায়গা। আমাদের মাস্টারপ্ল্যানে চলনবিল নিয়ে বিশেষ প্ল্যান রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ট্যুরিজমের প্রমোট ও কানেকটিভিটি তৈরি করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। একেকটা জায়গার মালিক আলাদা হয়। সেখানকার আর্কোলজিক্যাল সাইটগুলো দেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আর চলনবিলের ট্যুরিজম নিয়ে আমাদের মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে। যদিও এখনও মাস্টারপ্ল্যানটি পাস হয়নি।’