মনিরাজ শাহ, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ এএম
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জমে উঠেছে ভাপা, চিতইসহ নানা ধরনের পিঠার বেচাকেনা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গ্রামবাংলায় শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহী পিঠার মৌসুম। চলতি শীতে তীব্র ঠান্ডার ছোঁয়ায় পিঠার স্বাদ যেন আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় শীতের শুরুতেই জমে উঠেছে ভাপা, চিতইসহ নানা ধরনের পিঠার বেচাকেনা। সন্ধ্যা নামলেই হাটবাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ধোঁয়া-ওঠা গরম পিঠার দোকানে ভিড় করছেন শীতপ্রেমী মানুষ।
শীত এলেই তাহিরপুরে ভাপা, চিতইসহ নানা ধরনের পিঠা বিক্রি শুরু হয়। এর মধ্যে ভাপা ও চিতই পিঠাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হিমেল হাওয়ার প্রভাবে শীতের তীব্রতা বাড়ে। গোধূলি বেলায় হালকা কুয়াশা নামতেই শহরের ফুটপাত, হাটবাজার ও রাস্তার মোড়ে পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করেন মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা।
ছোট চুলায় মাটির পাতিলে পানি ভরে মুখ লেপে তার ওপর পাতলা কাপড়ের আস্তরণ দিয়ে পিঠা তৈরি করেন কারিগররা। কাপড়ে মোড়ানো চালের গুঁড়ার মিশ্রণ বাষ্পের তাপে ধীরে ধীরে তৈরি হয় গরম গরম ভাপা পিঠা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, পাকা রাস্তার পাশ ও মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান বসেছে। যদিও সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হয়, তবে সন্ধ্যার সময় চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা।
তাহিরপুর বাজারের পিঠা বিক্রেতা মোক্তার হোসেন বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি চালের চিতই পিঠা বিক্রি করি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। অনেকে অর্ডার দিয়ে পিঠা নিয়ে যান, আবার কেউ কেউ চুলার পাশে বসেই কয়েকটা পিঠা খেয়ে নেন।
সদরসহ বিভিন্ন এলাকার পিঠা বিক্রেতারা জানান, শীত মৌসুমে তাদের বেচা-বিক্রি বেশ ভালো হয়। সন্ধ্যার সময় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে, তাই চাহিদা অনুযায়ী পিঠা তৈরি করতে হয়। গ্রীষ্মকালে অন্য কাজ করলেও শীতকালে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা ও সিদ্ধ ডিম বিক্রি করেই তারা সংসার চালান।
উপজেলা সদরের তাহিরপুর বাজারে পিঠা খেতে আসা নরসিংদীর শাহীন মিয়া বলেন, চালের গুঁড়া, গুড় ও নারিকেল মিশিয়ে তৈরি গরম ভাপা পিঠার মজাই আলাদা। এটি আমাদের গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য বহন করছে।
তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ছোটবেলায় দলবেঁধে একে অপরের বাড়িতে পিঠা খেতাম। এখন সেই পিঠার উৎসবের চিত্র আর গ্রামে দেখা যায় না।
তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রিহাদ হাসান বলেন, বাবা-মায়ের কাছে শীতের সময়ের পিঠা তৈরির উৎসবের গল্প শুনেছি। কিন্তু আমাদের গ্রামে শীতে এখন আর কাউকে বাড়িতে বানাতে দেখা যায় না।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী ডেন্টাল সার্জন শরীফ হোসাইন বলেন, পথেঘাটের দোকানদারদের অবশ্যই হাত ধুয়ে পিঠা তৈরি করতে হবে এবং দোকান ঢেকে রাখা উচিত। বাসি বা পচা পিঠা খেলে গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগ হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।