চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৭ পিএম
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দীঘির মেলায় প্রতিবছরের ন্যায় বুধবার পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দীঘির মেলায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পুণ্যার্থীদের ঢল।
চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সূচিয়া বাইনজুরি গ্রামে দীঘি তৎসংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে বুধবার কাক ডাকা ভোর থেকে আগমন শুরু হয় পূণ্যার্থী-তীর্থযাত্রীদের। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রাচীনতম এ শুক্লাম্বর দীঘির পূর্ণ মেলায় অনেককে দেখা যায় আগের দিন দুপুর থেকেই।
মেলায় আগত পুণ্যার্থীরা আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি, রোগমুক্তি ও মনোবাসনা পূরণের জন্য ওই দীঘিতে স্নান করেন। অনেকে মানত হিসেবে অশ্বত্থ গাছের নিচে কবুতর উড়িয়ে এবং দীঘির জলে তরল দুধ ঢেলে দেয় পূজোর রীতি পালন করেন।
শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য্য ত্রিপাঠির নামানুসারে এ মেলার নামকরণ করা হয়। প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে ভারতের নদীয়া গ্ৰামে জন্ম নেয়া শুক্লাম্বর ৪০ বছর বয়সে সনাতন ধর্ম প্রচারের জন্য চন্দনাইশের বরমায় এসে জমি ক্রয় করেন। সেখানেই একটি শিবমন্দির তৈরির মাধ্যমে ধর্ম প্রচার ও জনসেবা শুরু করেন তিনি।
শ্রী শ্রী শুক্লাম্বর দীঘি উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হারাধন দেব বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি অন্যতম তীর্থস্থান। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী নয়, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষরাও এখানে আসেন।”
এদিন মেলা উপলক্ষে দিনব্যাপী পূজা অর্চনায় মগ্ন ছিলেন পুণ্যার্থীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আগত বিভিন্ন বয়সের দেশি-বিদেশি ভক্তরা মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে দীঘিতে স্নান গাছে সুতা বেঁধেও মানত সম্পন্ন করেন। মেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেই লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চন্দনাইশ থানা পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।