কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৮ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০০ পিএম
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকদিন ধরে চলছে সশস্ত্র সংঘর্ষ। সেখানকার আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও ও নবি হোসেন গ্রুপের চলমান গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। ত্রিমুখী সংঘর্ষের জেরে দেশের সীমান্তে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। ওপারের বোমা, গুলি সীমান্ত পেরিয়ে এপারে এসে পড়ায় এবং স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ বহুগুণ উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর নতুন ৪ সদস্য পালিয়ে আসায় অনুপ্রবেশ করা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। তাদের সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফ থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস।
তিনি জানান, রবিবার ৫৩ জন এবং সোমবার সকালে আরও ৪ জন সশস্ত্র রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে। তারা টেকনাফ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এদের আহত একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মামলা হলে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সোমবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরে’ মাইন বিস্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তের নাফ নদের শাহজাহানের দ্বীপ ও হাঁসের দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু হানিফের বাবা ফজল করিম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘সকালে সীমান্তের নাফ নদে বাংলাদেশ অংশে জেগে ওঠা শাহজাহানের দ্বীপে আবু হানিফ জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে পানিতে নামলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আবু হানিফের বাম পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
আহত আবু হানিফকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে গত রবিবার সকালে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত বাংলাদেশি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অপারেশন সম্পন্ন হলেও তার মাথায় লাগা গুলিটি বের করা যায়নি।’
হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গুলিটি এমন স্থানে বিদ্ধ হয়েছে, সেটা বের করলে রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যুও হতে পারে।’ এর আগে রোববার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় আহত হয় আফনান আরা। একই ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এদিকে মিয়ানমার থেকে এপারে এসে বোমা, গুলি পড়া এবং স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত ও সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশে উদ্বিগ্ন টেকনাফ সীমান্তবাসী সোমবার মানববন্ধন করেছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বিচার গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন বাংলাদেশে এসে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে না পারে, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’